পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। কভিড-১৯-এর প্রভাবে দেশের এই অর্থনৈতিক সংকট চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। গতকাল শনিবার সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে তিনি একথা বলেন। ইউএনডিপির সহযোগিতায় সিজিএস-এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, সরকার দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ঋণ সহয়তা আরো সহজ করতে চেষ্টা করছে। আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে করোনাকালে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
ওয়েবিনারে বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ্য গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ পলিসি ব্রিফ উপস্থাপন করেন। ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর নির্বাহী পরিচালক ও টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমান।
ড. নাজনীন আহমেদ তার উপস্থাপনায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কতিপয় সুপারিশ উল্লেখ করেন। সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের প্রশংসা করে, কোভিড-১৯ সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে নীতি নির্ধারকরা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি। পাশাপাশি বর্তমান চালের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইনে অটোরাইস মিলের অতিরিক্ত খাদ্য মজুত আটকাতে এ সংক্রান্ত আইন নতুন করে সাজাতে বলেন। তিনি সংকট মোকাবিলার জন্য তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। এগুলো হল—কোভিডকালীন সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি সরকারের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্রয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি কোম্পানিকে যুক্ত করার সমালোচনাও করেন। তিনি পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সুপারিশ করেন।