ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নিজের মেধা আর অভিনয় মুন্সিয়ানায় জয় করে চলেছেন দর্শকহূদয়। কাজের ক্ষেত্রে গল্পকে প্রাধান্য দিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র সকলের সঙ্গেই জনপ্রিয় কাজ উপহার দিয়েছেন। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আজ প্রচার হবে তার একাধিক নাটক। মেধাবী এই অভিনেত্রী নিজের অভিনয় পরিকল্পনা ও নাটকের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
আপনি টিভি ও ইউটিউব দুই মাধ্যমেই সমানতালে কাজ করছেন। কোন মাধ্যমটিকে প্রাধান্য বা গুরুত্ব বেশি দেন?
আমি কোনো মাধ্যমকেই গুরুত্ব দিই না। কোন প্লাটফর্মে কাজটি যাচ্ছে সেটা আমার কাছে মেটার করে না। আমি আসলে কাজ এবং গল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করি। নাটকের গল্প ভালো হলে, ভালো অভিনয় করলে মানুষ অবশ্যই দেখবে, সেটা যে মাধ্যমেই হোক।
টিভি নাটক থেকে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে আপনার মূল্যায়ন শুনতে চাই—
এটা আসলে আমি ঠিক জানি না। তবে আমার কাছে মনে হয় টিভি নাটকও দর্শকরা দেখছেন। কারণ বেশিরভাগ নাটক তো আগে টিভিতেই যাচ্ছে। তারপর অন্য মাধ্যমে। এভাবেই তো লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত আসছে। তো টিভি দর্শক যে আছে সেটা মানতেই হবে। যারা তরুণ তারা ইউটিউবমুখি, বাকি যে দর্শকরা আছেন তারা কিন্তু টিভিতেই নাটক দেখেন। টিভির দর্শকরা নীরব দর্শক। এদের নিয়ে মাতামাতি হয় না, তাদের চোখেও পড়ে না। তাই আমার মনে হয় দুই মাধ্যমই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি টিভিসি থেকে অভিনয়ে এসেছেন। এই মাধ্যম থেকে এলে অনেক নেতিবাচক কথা শুনতে হয়। বিষয়টি নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আমার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিকূলতা আসেনি। বরং টিভিসি থেকে আসার কারণে সম্মান বেশি পাই। টিভিসিতে কম সময়ে বেশি এক্সপ্রেশন দিতে হয়, যেটা দেখে অনেকেই মনে করেছেন আমি অভিনয়ের জন্য খুবই ভালো হবো।
আপনাকে দীর্ঘমোয়াদি জুটিতে বেশি দেখা যায়। এর কারণ কী? এটা কী শুধু জনপ্রিয়তার জন্য নাকি আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের কারণে?
দেখুন, এটা ভুল। আমি কিন্তু সিনিয়র-জুনিয়র সব অভিনেতার সঙ্গেই নিয়মিত কাজ করেছি, এখনো করছি। আমার মনে হয় ইন্ডাস্ট্রিতে আমিই একমাত্র অভিনেত্রী যে সবার সঙ্গেই কাজ করি। এমনকি আমি আগে জিজ্ঞেসও করি না কার সঙ্গে কাজ করছি। একজনের সঙ্গে আমার জনপ্রিয় কাজ আছে এমন নয়, সবার সঙ্গেই আমার জনপ্রিয় কাজ আছে। এ নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে আমার বেশ সুনামও আছে, আর আমিও এটাকে এনজন করি।
বর্তমান সময়ে অনেক নাটকেই অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিনেত্রী ফারিনের মন্তব্য শুনতে চাই—
আমি এ ধরনের কাজ করি না। আমার মুখ থেকে এমন অশ্লীল সংলাপ বের হয় না। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যও করতে চাই না। যারা এ ধরনের কাজ করছেন তাদের থেকেই এ প্রশ্নের ভালো উত্তর পাবেন। আসলে এই বিষয়টি তাদের কাজের ধরন ও রুচির ওপর নির্ভর করে।
এ ধরনের সংলাপ ও মানহীন কাজের কারণে অনেকেই ভালো নাটক দেখতেও সাহস পাচ্ছেন না। এতে করে কী ভালো কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না?
আমার মনে হয় না। আপনার ব্র্যান্ডভ্যালু আপনার নিজের ওপর নির্ভর করে। আপনি কী দাঁড় করাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে। সেই ধরনের নাটক দেখলে আপনি চিন্তা করবেন, কিন্তু আপনি যদি আমাদের ভালো কাজ দেখেন তাহলে আপনি নির্দ্বিধায় নাটক দেখতে চাইবেন। এটা যার যার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে।
দর্শকপ্রিয়তার পরও কেন ফেসবুক থেকে দূরে থাকছেন?
আমি আসলে কোনো সময়ই ফেসবুকে নিয়মিত ছিলাম না। আমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসলে ততটা আগ্রহ নেই। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে নয়, আমার কাজ দিয়ে জনপ্রিয় হতে চেয়েছি। আমি চাই কাজ দিয়ে মানুষ আমাকে চিনবে এবং সেটাই চেষ্টা করছি।
নতুনদের ক্ষেত্রে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়া কতটা ইতিবাচক বলে মনে করেন?
এক্ষেত্রে আমি খুবই ভাগ্যবান এবং পেশা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রেও জলজ্যান্ত এক উদাহরণ। কারণ আমার পরিবারের বা পরিচিতজনদের মধ্যে কেউ ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল। তবু আমি কিন্তু কাজ করছি। শুরু থেকে এখন অবধি কোনো প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়নি। আমার মনে হয় কাজের প্রতি ভালোবাসা ও সততা থাকলে সফলতা আসবেই। তাছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত আর চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করলে কারো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।
অনেকেই নাটকে প্রতিষ্ঠার পরই চলচ্চিত্রে আসেন। এ বিষয়ে আপনার চিন্তাধারা কী?
আমার চলচ্চিত্রে আসতে হবে বা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরে!—এমন কোনো চিন্তা নেই। আমার কথা হচ্ছে, আমি সবসময় গুরত্ব দিই কাজকে, গল্পকে। যদি কখনো আমার প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে যায় তো নিশ্চয় চলচ্চিত্রে কাজ করবো। কিন্তু সে ধরনের কাজ এখনো পাইনি যে, যেটা না করলে মিস হয়ে যাবে।