জান্তার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে মিয়ানমারে টানা বিক্ষোভ

জান্তার হুঁশিয়ারি ও দমনপীড়ন উপেক্ষা করে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অষ্টমদিনের মতো গণবিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে, বিক্ষোভ দমনের জন্য জান্তাশাসকদের বলপ্রয়োগ বাড়ছে। রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আন্দোলনকারীদের। তার পরও বিক্ষোভকারীরা দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেতা অং সান সু চির মুক্তি এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন করছেন।

গতকাল শনিবারও মিয়ানমারের বাণিজ্যিক নগরী ইয়াংগুনে হাজারে হাজারে বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে নানারকম স্লোগান দেয়। রাজধানী নেপিডোর সড়কগুলোও বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে যায়। ইয়াংগুনে বিক্ষোভকারীরা ‘রাতের আঁধারে অপহরণ বন্ধ করুন’ লেখা ব্যানার নিয়ে আসে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও। জান্তাশাসকদের সমালোচনাকারীদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ হওয়ার পর দেশটির সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তবে এসব দমনপীড়নের অভিযোগের           ব্যাপারে সেনাশাসকরা কোনো মন্তব্য করেনি। রাজনৈতিক বন্দিদের বিষয়ে নজরদারি করে এমন একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের লোকজন জানতেও পারছেন না কী ?অভিযোগে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে তাদের রাখা হবে’।

জানা গেছে, জান্তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবী, চিকিত্সক, প্রকৌশলী ও শিক্ষকরা পথে নেমেছে। তারা বলছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য স্বৈরশাসনের পতন ঘটানো।’

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতা দখল করে। ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতা অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, এনএলডির কয়েক জন নেতাসহ সরকারের মন্ত্রীদের আটক করে রেখেছে সামরিক জান্তা সরকার। এছাড়া তাদেরকে আটকের পর এক বছরের জন্য দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।—বিবিসি ও রয়টার্স