চতুর্থ দফায় আরো প্রায় ৪ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় ভাসানচরে যাওয়ার পক্ষকালের মাথায় আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবার চার ভাগে তাদের সেখানে পাঠানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের আজ দুপুরে এবং বিকালে দুই দফায় ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এমনটি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আগের মতো উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকা থেকে বাসগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে জানা গেছে।
উখিয়ার মূল ক্যাম্প ছাড়াও ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা ট্রানজিট পয়েন্টে শনিবার বিকাল থেকে আসতে শুরু করে। বাকিদের রবিবার সকাল ও দুুুপুরের মধ্যে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সোমবার যারা ভাসানচরের পথে রওনা দেবেন তারা রবিবার সন্ধ্যা ও সোমবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ট্রানজিট পয়েন্টে আসবে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। দুদিনের যাত্রার জন্য প্রায় ৭২টি বাস, একাধিক ট্রাক ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য যানবাহন রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারেও স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হওয়া কমপক্ষে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে, এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। কিন্তু রবিবার ও সোমবারের স্থানান্তরের বিষয়ে শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি সম্পর্কে মিটিং করেছে বলে জানিয়েছে অসমর্থিত সূত্র।
নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ক্যাম্পের মাঝিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে ভাসানচরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জীবনচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে এখন অনেকে আগ্রহী হয়ে অপেক্ষা করছে। কিন্তু প্রথম যাত্রার আগে অনেক বুঝিয়েও জড়ো করা কষ্টকর ছিল। এখন চিত্র পালটেছে। রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে নিজেরাই এখন তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ভাসানচরে গত ৪ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি যাদের আত্মীয়স্বজন গেছে, তাদের কাছে সুযোগ-সুবিধার খবর শুনেই অনেকেই সেখানে যেতে উতলা।
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মো. ইউছুফ বলেন, আমার ব্লক থেকে বেশ কয়েকটি পরিবার ভাসানচরে যাচ্ছে। তাদের কাউকে জোর করা হয়নি।
কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের মাঝি আবদুর রহিম বলেন, এ ক্যাম্প থেকেও ১৫টি পরিবার ভাসানচরে যাচ্ছে। প্রথম দফায় যারা গেছে, তাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধার খবর জেনেই নতুন করে অনেকেই যেতে আগ্রহী হয়েছে।
ভাসানচরে যেতে প্রস্তুতদের অনেকে বলেন, বিশ্ব চাপে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আলোচনা করলেও নানা তালবাহানা শুরু করে। সম্প্রতি সেদেশে সেনা অভ্যুত্থান হবার পর স্বল্প সময়ে নিজ দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরো ক্ষীণ হয়ে এসেছে। সুতরাং পাহাড়ি ঝুপড়ির চেয়ে দ্বীপের সুন্দর দালানে অবস্থান উন্নত জীবন দান করবে। ক্যাম্পে একটু জোরে বাতাস হলে চালা উড়ে যাবার ভয়টা অন্তত থাকবে না। তাছাড়া, আশ্রিত জীবনে বাংলাদেশ সরকার যেখানেই রাখে তাতো একই রকম।