সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি সহায়তা চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা। চলতি অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমদানিকৃত এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বিল পরিশোধে এ অর্থ চায় তারা।
গত সপ্তাহে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ বিভাগে ভর্তুকি সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। এর আগের অর্থবছরে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি পেয়েছিল সংস্থাটি।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়কালে সংস্থাটি পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী ৩২ কার্গো এলএনজি আমদানি করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক খোলাবাজার থেকে মাত্র এক কার্গো এলএনজি আনা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে খোলা বাজার থেকে এই একমাত্র চালানটি পাঠায় ভিটল এশিয়া। এই চালানের মাধ্যম ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সরকারের চুক্তিকৃত মূল্যহারের চেয়ে খোলা বাজারের এলএনজির দর কম। যেমন খোলাবাজার থেকে সংগ্রহকৃত একমাত্র চালানটিতে চুক্তিকৃত চালানগুলোর তুলনায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে। তাই যে উপায়ে অর্থ সাশ্রয় হয় সে উপায়ে এলএনজি কেনা উচিত।
সম্প্রতি পেট্রোবাংলা এক চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে করমুক্তি চেয়ে চিঠি দিয়েছে। বর্তমানে এলএনজির আমদানি মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ২ শতাংশ আগাম আয়কর (এআইটি) দিতে হয়। কেনা দামের চেয়ে কম দামে এলএনজি বিতরণ করার কারণ দেখিয়ে এ কর মওকুফের অনুরোধ জানায় সংস্থাটি। এছাড়া এলএনজি আমদানিতে আগে যে কর ছাড়ের সুবিধা ছিল তাও বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে সরকার এলএনজি আমদানি শুরু করে। বর্তমানে কাতার গ্যাস এবং ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (ওটিআই) সঙ্গে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
আমদানিকৃত এলএনজি কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৃথক দুইটি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) খালাসের পর গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেশজ গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। পেট্রোবাংলা এবং সামিটের মালিকানাধীন পৃথক দুইটি এফএসআরইউ পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। দুই টার্মিনাল দৈনিক অন্তত ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার সক্ষমতা রাখে। তবে বর্তমানে এলএনজির দাম বাড়তে থাকায় সরকার আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। কেননা জাতীয় গ্রিডে যত বেশি এলএনজি যুক্ত হবে গ্যাসের গড় দাম তত বাড়বে।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু ভর্তুকি দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে না। বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের কাছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিল পাওনা রয়েছে পেট্রোবাংলার আওতাধীন কোম্পানিগুলো। সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর কাছে পাওনা রয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। ক্যাপটিভ বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর কাছে পাওনা দেড় হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি শিল্প কারখানা থেকে পাওনা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এ পাওনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে।