শাস্তির হুঁশিয়ারিতেও দমছে না বিদ্রোহী

বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের আর কখনো মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এছাড়া বিদ্রোহীদের মদতদাতাদের সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারপরও দমছেন না বিদ্রোহীরা। আজ রবিবার চতুর্থ ধাপের ৫৫ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শতাধিক। বিষয়টি দলীয় নীতিনির্ধারকদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ধাপের ২৩টির মধ্যে পাঁচটি, দ্বিতীয় ধাপের ৫৯টির মধ্যে ১৮টি, তৃতীয় ধাপের ৬১টির মধ্যে ১৩টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হন বিদ্রোহীদের কাছে। পরাজয়ের এ সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ                নেতাদের নির্দেশনা ও হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ার পেছনে বেশির ভাগ জায়গায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা মদত দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব বলয় ভারী করতে কিছু সংসদ সদস্য নৌকার বিরুদ্ধে নিজেদের লোক দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় সাংগঠনিক আটটি টিমকে নির্দেশ দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। এসব টিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্রোহীদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে মন্ত্রী-এমপি বা প্রভাবশালী কোনো নেতা জড়িত থাকলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদতদাতা মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতারা দলীয় পদ হারাচ্ছেন! সাংগঠনিক ও বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিদ্রোহীদের মদত দেওয়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্রোহীদের মদত দেওয়া এমপিদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে না। তবে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থাকবে। তাই এ যাত্রায় বিদ্রোহীদের মদতদাতা সংসদ সদস্যরা দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ হারালেও সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকছে। তবে ভবিষ্যতে তাদের আর মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড।

আজ ৫৫ পৌরসভায় ভোট হচ্ছে। ৫৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে ২২১ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৭৩ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬১৮ জন প্রার্থী আছেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ৩১ পৌরসভায় ভোটগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা রয়েছে। আওয়ামী লীগের দুই জন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, যে ৩৬টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হেরেছেন, এর বেশির ভাগ স্থানেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের পেছনে স্থানীয় এমপিদের মদত ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য আর প্রভাবশালীদের আশীর্বাদ না পেলে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার মতো সাহস দেখান না।

প্রসঙ্গত, গত তিন ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিদ্রোহীদের মদত দিয়েছেন এমন ১৩ সংসদ সদস্যের নাম কেন্দ্রে জমা পড়েছে। সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আরো দুই ধাপে কারা কারা মদত দিচ্ছেন তাদেরও মনিটরিং করা হচ্ছে। নির্বাচন শেষ হলেই বিদ্রোহীদের মদতদাতাদের চূড়ান্ত তালিকা করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া হবে।