বর্তমান সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে ---------------- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে এবং বিভিন্ন মেয়াদকালে সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।’ তিনি ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস ২০২১’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণিতে গতকাল এ কথা বলেন। এতে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং এই পেশাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিপূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ১৯৭৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেস কাউন্সিল আইন প্রণয়ন করেন।’

প্রেস কাউন্সিল ২০টি জেলা প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই বিতরণ এবং গোপালগঞ্জ ও কুমিল্লা প্রেসক্লাবে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু-কর্নার স্থাপন করায় প্রেস কাউন্সিলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশে ও উন্নয়নে বর্তমান সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রেসক্লাবকে আধুনিকায়ন করে তোলার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে গড়ে তোলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার। যেখানে সাংবাদিকরা পাবেন পেশাগত সব ধরনের সুযোগ। ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন সহায়তাকার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক সহায়তা ভাতা-অনুদান নীতিমালার আওতায় সাংবাদিকদের অনুদান দেওয়া হচ্ছে। সিড মানি ও অনুদানসহ কল্যাণ ট্রাস্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা সারা দেশের ৩ হাজার ৩৫০ জন সাংবাদিকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। মহামারির সময় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।’ মহামারিতেও করোনা ভাইরাসের সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরায় গণমাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকার সাংবাদিক-বান্ধব। প্রতি বছর সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অসুস্থ বা নানা কারণে সমস্যায় পড়লে সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অনেক সাংবাদিক প্লট পেয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, সাংবাদিকগণ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। এ সময় তিনি প্রেস কাউন্সিল পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

আস্থার সঙ্গে দায়িত্ব পালন

করতে কোস্ট গার্ডের প্রতি

 প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা প্রদানসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশপ্রেম, আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও অবিচল আস্থার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল কোস্ট গার্ডের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘কোস্ট গার্ড দিবস, ২০২১’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোস্ট গার্ড তার সরকারের ‘রূপকল্প ২০৪১’ ও ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।