করোনাকালীন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে পারে গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল, মেডিক্যাল ও কৃষি ভর্তি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরই তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে ভর্তিযুদ্ধ নামক এক রণক্ষেত্রে। এ লড়াই যেন টিকে থাকার। ধৈর্য, তীব্র সাধনা, কঠোর পরিশ্রম ও তুখোড় মেধা দিয়ে তারা অর্জন করবে সাফল্যের মুকুট। সঠিক প্রস্তুতির অভাব ও কিছু ভুলের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী দিন শেষে পরাজয় মেনে নেবে। সাফল্যের হাসি হাসবে
অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী। শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন— সাদমান
সাদিক শোভন
১. একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা
অনেক শিক্ষার্থী একই সঙ্গে মেডিক্যাল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা খুব জরুরি এবং সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে সর্বোচ্চ মনোযোগ ও পরিশ্রম দিতে হবে। একসঙ্গে অনেক কিছুর প্রস্তুতি নিলে দিনশেষে আসলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
২. স্বাস্থ্য সবার আগে
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে অনেক চাপে থাকে। অধিক পড়াশোনার জন্য ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এটি করা যাবে না। একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীর দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত পানি পান করতে হবে। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় কোনোভাবেই অসুস্থ হওয়া যাবে না। তাই স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল থাকতে হবে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা নিয়ে কোনো কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। তাই হতাশ হওয়া যাবে না।
৩. সময় ব্যবস্থাপনা
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধে জয় লাভ করতে হলে অনেক রণকৌশল শিখতে হবে। সময় ব্যবস্থাপনা তার মধ্যে অন্যতম। কীভাবে কম সময়ের মধ্যে উত্তর করা যায় তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর অনুশীলন। এর জন্য শর্টকাট টেকনিকসহ আরো বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে বাড়িতে ঘরে বসে সময় দেখে দেখে পরীক্ষা দিতে হবে। একটি নির্দিষ্ট টাইম সেট করে নিজেকে যাচাই করতে হবে। সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাদ পড়ে যায়।
৪. অনুশীলন এবং অনুশীলন
এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন প্রচুর অনুশীলন। যে যত বেশি অনুশীলন করবে সে তত বেশি এগিয়ে থাকবে। তবে অনুশীলনের সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি যে, একই টপিক বা বিষয় যেন বারবার রিভিশন দেওয়া না হয়। যেমন: একই নিয়মের দশটি অংক সমাধান করার চেয়ে দশটি নিয়মের একটি করে অংক সমাধান করা বেশি কার্যকরী। এতে করে অল্প সময়ে অনেক রিভিশন দেওয়া যায়। সকল টপিক ও বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যে বিষয় বা টপিক এ দুর্বল সেটি আগে অনুশীলন করা উচিত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের দুর্বলতাকে কাটিয়ে তুলতে হবে।
৫. প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস হওয়া
আত্মবিশ্বাসী না হলে এই যুদ্ধে টিকে থাকা অনেক কঠিন। প্রতিদিন নিজেকে বলতে হবে, ‘আমি পারবো।’ এ সময় অন্য কারো সঙ্গে নিজের তুলনা করা যাবে না। অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে যায়ে অনেক শিক্ষার্থী আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
৬. কোচিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
কোচিংগুলো পরীক্ষার্থীদের যুদ্ধের রাস্তাগুলো চিনিয়ে দেয়। কিন্তু যুদ্ধ নিজেকে করতে লাগে। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে এক জন শিক্ষার্থী প্রশ্ন পদ্ধতি সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা লাভ করবে। এরপর সে যদি নিজেকে প্রস্তুত করে তুলতে পারে তাহলে কোচিং-এর কোনো প্রয়োজন নেই। তবে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় অসংখ্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করতে হবে। নিজের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং তা নিজেকেই কাটিয়ে তুলতে হবে।
৭. গেজেট থেকে সাবধান
এ সময় সকল প্রকার গেজেট থেকে নিজেদের দূরে রাখা উচিত। কারণ প্রতিটি সময় অনেক মূল্যবান। অযথা কোনো সময় নষ্ট করা যাবে না। তবে প্রতিদিন আপডেট থাকতে হবে। প্রতিদিন একবার হলেও গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম পড়া উচিত।