ঝিনাইদহে পাটের রেকর্ড মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। অতীতে কোনো দিন ধান পাট এত উচ্চমূল্যে বিক্রি করেনি চাষি। শনিবার শৈলকুপা ভ্যান ভর্তি পাট নিয়ে আসেন ইব্রাহিমপুর গ্রামের চাষি শেহার উদ্দিন। এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় তার মুখে ছিল খুশির হাসি। জানালেন প্রতি মণ সাড়ে ৬ হাজার টাকা দরে পাট বিক্রি করলেন। গত মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। নতুন পাট উঠার পর দাম কম ছিল। প্রতি মণ ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন। তারপর দাম চড়তে থাকে। তিনি পাট বিক্রি না করে রেখে দেন। কিন্তু এত দাম পাবেন তা কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, এবার ১০ বিঘাতে পাট চাষ করবেন। নওপাড়া গ্রামের চাষি মন্টু মণ্ডল বলেন, গত মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তার খেতের অর্ধেক পাট নষ্ট হয়ে যায়। ফলনও কম হয়। ১০ মণ পাট হয়েছিল। বিক্রি না করে রেখে দিয়ে ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে ৭ মণ পাট প্রতি মণ ৫ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ‘এত দাম পাবো তা কল্পনাও করতে পারিনি’ বলে জানান এ চাষি। শনিবার ৬ হাজার ৪০০ টাকা করে ৩ মণ বিক্রি করেন। এবার আরো বেশি জমিতে পাট লাগাবেন বলে জানান তিনি। এবার পাট ব্যবসায়ীরা বাম্পার লাভ করছেন। যাদের গুদামে পাট মজুত আছে তারা বাম্পার লাভ করতে পেরেছেন। শৈলকুপা বাজারের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, পাটের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার জুট মিল মালিকরা চড়া দামে পাট কিনছেন বলে দাম চড়ে গেছে।
অপর দিকে ধানের দামও অস্বাভাবিক রকম চড়া। মোটা ধানের দাম সর্বনিম্ন ১২০০ টাকা মণ। আর মাঝারি চিকন ধান বিনা-৭, ধানী গোল্ডসহ হাইব্রিড ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা দরে। বাসমতি ধানের দাম প্রতি মণ সাড়ে ১৪০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা। শৈলকুপা ব্রহ্মপুর গ্রামের চাষি মফিজুল ইসলাম বলেন, ধানের দামে চাষিরা খুশি। তিনি জানান, অতীতে কোনো দিন এ দামে ধান বিক্রি করতে পানেনি। এতে চাষি এবার বোরো চাষে বেশি ঝুঁকেছে।
বাজারে নতুন সর্ষে উঠতে শুরু করেছে। প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে আড়াই টাকা দরে। মসুর ডালের দামও ভালো প্রতি ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সস্তা শুধু শীতকালীন সবজি। দুই আড়াই কেজি সাইজের এক পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৮- ১০ টাকা। বাঁধাকপি প্রতি পিস ( দুই-আড়াই কেজি সাইজ ) ৫-৬ টাকা। পালং শাকের আঁটি ২-৩ টাকা। আলু খুচরা ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মনোহরপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হাসান পান্না বলেন পেঁয়াজের দামও ভালো। মুড়ি কাটি পেঁয়াজ ১ হাজার টাকা থেকে ১১০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এমন দাম পেলে চাষির লাভ হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহারের জন্য চাহিদা বেড়েছে। বিদেশেও পাট রপ্তানি বেড়েছে। এ কারণে দেশের বাজারে পাটের দাম বেড়ে গেছে।