উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই

চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও উন্নয়ন বাজেটে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত এই সাত মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে। এডিপি বাস্তবায়ন হার গেল পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম লক্ষ্য করা গেছে। ৭ মাসের হিসাবে গত পাঁচ বছরে গড়ে ৩২ শতাংশের ওপরে ছিল এডিপি বাস্তবায়ন হার। আগের অর্থবছর (২০১৯-২০) বাস্তবায়ন হার ছিল ৩২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছর আকার বাড়লেও গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ফলে শেষ মাসগুলোতে বাড়তি অর্থব্যয়ের চাপ বাড়ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে জানুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬১ হাজার ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হার ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গেল অর্থবছরের (২০১৯-২০)  প্রথম সাত মাসে বাস্তবায়ন হার ছিল ৩২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, ব্যয় হয়েছিল ৬৮ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিবছরই শুরুর দিকে ব্যয় কম হলেও শেষ দিকে অর্থ ব্যয় বেশি হয়।

আইএমইডির তথ্যমতে, জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ গত সাত মাসে দেশীয় অর্থ (জিওবি) ৩৯ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা (২৯.২২%), প্রকল্প সাহায্য অংশে ২০ হাজার ১২ কোটি টাকা (২৮.৩৯%) এবং সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা (১৭.৩৯%) খরচ হয়েছে। এডিপির মোট আকার হিসাব ধরলে আগামী ছয় মাসে ৭১ শতাংশের বেশি অর্থ খরচ করতে হবে।

এদিকে একক মাস হিসেবে গেল মাস এবং বছরের ব্যবধানে খরচ কম হয়েছে। ডিসেম্বরে যেখানে ১২ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছিল সেখানে জানুয়ারিতে খরচ নেমেছে ৯ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা বা মোট এডিপির সাড়ে ৪ শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও এডিপির আকার সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। এবার এডিপিতে কোভিড-১৯ মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতেও প্রাধান্য রয়েছে। সে হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া সব প্রকল্পই গুরুত্বপূণ। তবুও বাস্তবায়ন হার বিবেচনায় এবার বড় অঙ্কের কাটছাঁটের আশঙ্কাও রয়েছে। এরই মধ্যে বৈদেশিক অংশে বরাদ্দ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রাথমিক প্রাক্কলন করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে দেশি অর্থায়নের অংশ নাও কমতে পারে। এডিপি সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মকর্তারা জানান, বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে এমন প্রকল্পের বরাদ্দ কেটে নিয়ে দ্রুতগতির প্রকল্পে দেওয়া হবে। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে সরাসরি করোনা মোকাবিলা ও করোনার আঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অগ্রাধিকার পাবে।

গত সাত মাসের এডিপি বাস্তবায়ন চিত্রে দেখা যায়, বরাদ্দের শীর্ষে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে বিদ্যুত্ বিভাগ বরাদ্দের ৩৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সেতু বিভাগ ২১ দশমিক ১১ শতাংশ, প্রাথামিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৩২ শতাংশ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ ৫৩ শতাংশ, কৃষি মন্ত্রণালয় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৩৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৩০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩২ দশমিক ১২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে।