হোয়াইটওয়াশের গ্লানিতে ডুবল বাংলাদেশ

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৪০৯ ও ১১৭

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৯৬ ও ২১৩

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: রাকিম কর্নওয়াল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-০ তে জয়ী

ক্রিকেট মাঠের আনন্দ, বেদনা অনুরণিত হয় দেশের আনাচে-কানাচে। গতকাল ২২ গজের লড়াইয়ে দেশব্যাপী বিবর্ণ বসন্তের বার্তা ছড়াল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্টের খাতা খোলার আশায় ছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজ শেষে ৯ বছর পর দেশের মাটিতে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার গ্লানিতে ডুবল বাংলাদেশ দল। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিনের আলো       নিভে যাওয়ার আগে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে নিভু নিভু প্রদীপ হয়ে জ্বলছিল জয়ের আশা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জোমেল ওয়ারিকানের বলে স্লিপে কর্নওয়াল মিরাজের ক্যাচ নিতেই রুদ্ধশ্বাস জয়ের আনন্দে মাতে উইন্ডিজরা।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার স্মারক হয়ে চতুর্থ দিনেই ধরা দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মুমিনুলদের ১৭ রানের হার। সর্বশেষ ২০১২ সালে ক্যারিবিয়ানদের কাছেই হোম সিরিজে টানা দুই টেস্ট হেরেছিল বাংলাদেশ। ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন কর্নওয়াল। সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেন এনক্রুমা বনার।

জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩১ রান। গতকাল দিনের শুরু থেকে টার্ন, বাউন্স নিয়ে হাজির হওয়া উইকেটে এ টার্গেট কঠিন ছিল তবে অনাতিক্রম্য ছিল না। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে তামিম-সৌম্যর ৫৯ রানের জুটিতে ভালো শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। তারপরও বিপর্যয় পিছু ছাড়েনি। পার্টটাইম স্পিনার ক্রেইগ ব্রেথওয়েটকে উইকেট দিয়ে বিদায় নেন সৌম্য (১৩)। একই বোলারকে উইকেট দিয়েছেন ২৮তম হাফ সেঞ্চুরি করা তামিম। ৪৬ বলে ৯ চারে ৫০ রানে আউট হন তিনি।

টানা সাত ইনিংস আশার ছবি হয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন ১১ রান করে। মুশফিকুর রহিম (১৪), মোহাম্মদ মিঠুন (১০) দলের ভরসা হতে পারেননি। অধিনায়ক মুমিনুল ধৈর্য্য দেখালেও স্থায়ী হননি। ২৬ রান করে আউট হয়েছেন। লিটন দাস ২২ রান করে ফিরেছেন। ১৮৮ রানে নবম উইকেট পতনের পর আবু জায়েদ রাহীকে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্রোতের বিপরীতে তার লড়াইটা থেমেছে ওয়ারিকানের বলে। ৩১ রান করেন তিনি। নাঈম হাসান ১৪ রান করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সবকটি উইকেটই নিয়েছেন উইন্ডিজ স্পিনাররা। রাকিম কর্নওয়াল ৪টি, ব্রেথওয়েট-ওয়ারিকান ৩টি করে উইকেট পান। গতকাল অবশ্য মিরপুরের উইকেটের গর্ভে বিলীন হয়েছে ১৭ উইকেট।

এর আগে গতকাল ৩১.৫ ওভার ব্যাট করে শেষ ৭ উইকেটে ৭৬ রান যোগ করেছিল উইন্ডিজরা। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৭ রানে অলআউট হয় দলটি। বনার ৩৮, জশুয়া দা সিলভা ২০ রান করেন। বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম ৪টি, নাঈম হাসান ৩টি, রাহী ২টি ও মিরাজ ১টি করে উইকেট পান।