শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার

লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সিকদার গ্রুপ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার। গতকাল রবিবার দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর মধুপুর নিজ গ্রামে তাকে চির বিদায় জানায় স্বজন ও সাধারণ মানুষ। পরে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মরহুমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা  প্রদান শেষে শরীয়তপুর থেকে ঢাকা রায়েরবাজার সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জয়নুল হক ১৯৩০ সালের ১২ আগস্ট আসামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন। সাত দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পর্যটন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি ১৯৪৫ সাল থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তার পাশে থেকেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার চার দিন পর তিনিই প্রথম রায়েরবাজারে কুলখানির আয়োজন করেন। এজন্য সে সময়ের তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি তাকে জেলও খাটতে হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক শোকবার্তায় বলা হয়, জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উপজেলার জেড এইচ সিকদার ইউনিভার্সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান, পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামানসহ দলমত নির্বিশেষে বহু মানুষ। উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন জয়নুল হক।