মনপুরায় বঙ্গবন্ধুর চিন্তানিবাসের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি

স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো পূরণ হয়নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তানিবাস গড়ার স্বপ্ন। তাঁরই দেওয়া ইট, বালু, সিমেন্ট, রড দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও সেটিও নদীগর্ভে হারিয়ে গিয়েছে আরও ৫-৭ বছর আগেই। এরপর আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকারী উদ্যোগ।  

জানা যায়, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর উপকূলে আছড়ে পড়া মহাপ্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার আঘাতে লণ্ড-ভণ্ড হয়ে যাওয়া মনপুরার সাধারণ মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজ হাতে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। এ সময় চারদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত সারি সারি কেওরাবাগান, পাখির কলকাকলিতে মুখরিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তাই চিত্তবিনোদন ও অবকাশকালীন সময় কাটানোর জন্য এখানে চিন্তানিবাস স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন। এর জন্য ইট, বালু, সিমেন্ট, রডও পাঠিয়ে ছিলেন। তা দিয়ে রামনেওয়াজ বাজার সংলগ্ন বড় দীঘির পাশে স্থাপন করা হয়েছিল চিন্তানিবাসের ভিত্তিপ্রস্তর। তবে এর পর প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি। গত ৫-৭ বছর আগে মেঘনার তীব্র ভাঙ্গনে সেই নিদর্শনটিও নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জন্ম শতবর্ষেও এসেও জাতির জনকের সেই স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

ভ্রমণপিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেওয়ার বহু উপকরণ রয়েছে এ দ্বীপে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের এক অনন্য সৌন্দর্যের পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডে দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে হরিণের পাল। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার সেই স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন মনপুরার লক্ষাধিক মানুষ।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম মিঞা জানান, ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও নানা উপকরণ ছড়িয়ে আছে এ দ্বীপে। বঙ্গবন্ধুর চিন্তানিবাসের জায়গা নির্ধারণের জন্য জমির প্রস্তাব দেওয়ার কাজ চলমান। বঙ্গবন্ধুর চিন্তানিবাস বাস্তবায়ন হলেই মনপুরা হবে পর্যটকদের আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা।

এ ব্যাপারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, জাতির জনকের স্বপ্ন  দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আশা করছি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি