সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর-উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশস্থলে হামলা সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় ২৯ জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে শাহবাগ ও রমনা থানায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফকরুল ইসলাম রবিনসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ। দুই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ৭৪ জন। অবশ্য কয়েক জনকে উভয় মামলার আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২৪০ জনকে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২৯ জনকে। তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, শনিবার বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। আমরা চেয়েছিলাম তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করুক। কিন্তু তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়াও রাস্তা অবরোধ ও পুলিশের কাজে বাধা ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। এসব ঘটনায় রমনা ও শাহবাগ থানায় দুটি মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এস আই সহিদুল ওসমান মাসুম জানান, রবিবার চার দিনের রিমান্ড আবেদন করে ১৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় পৃথক একটি মামলা করে পুলিশ। ঐ মামলায় রুহুল কবির রিজভীসহ ৪২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১২০ জনকে। এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬ জনকে। গতকাল রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড করেন।