ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক পাচারকারীদের ট্রাকের চাপায় র্যাবের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের চক্রকে গ্রেফতার করার জন্য র্যাবকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
র্যাব সদস্য নিহত কনস্টেবল ইদ্রিস মোল্লার (২৮) বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার কেল্লাই গ্রামে। র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মুনির হাসান জানান, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সূত্রে র্যাব জানতে পারে যে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৩০ কেজি গাঁজার একটি চালান গাজীপুরের মাওনা হয়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছে। ঐ সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১ এর আভিযানিক দল পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সামনে একটি চেকপোস্ট বসায়।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সন্দেহজনক একটি ট্রাককে (ঢাকা মেট্রো ড-১৪-৩৫৮১ ) চেকপোস্টে থামার জন্য র্যাব সদস্যরা সিগন্যাল দিলেও ট্রাকটি তা অমান্য করে চলে যায়। পরে র্যাব সদস্য কনস্টেবল ইদ্রিস মোল্লা ও সিনিয়র ডিএডি গোলাম মোস্তফা মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাওয়া করেন। ট্রাকটি বাঘের বাজার এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকের লোকজন চলন্ত মোটরসাইকেলের সামনে এক বস্তা গাঁজা ফেলে ধাওয়ারত র্যাব সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করে। ডিএডি গোলাম মোস্তফা রাস্তা থেকে গাঁজার বস্তা জব্দ করে ঐ স্থানে অবস্থান করেন। কনস্টেবল ইদ্রিস মোল্লা একাই মোটরবাইক নিয়ে ট্রাকটিকে অনুসরণ করেন। র্যাবের একটি মাইক্রোবাসও তাদের অনুসরণ করতে থাকে।
ট্রাকটি ভালুকায় আসার পর মোটরসাইকেল নিয়ে ইদ্রিস মোল্লা ট্রাকের সামনে চলে এসে সেটির গতিরোধ করেন। তখন মাদক বহনকারী ট্রাকটি ইদ্রিস মোল্লাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে র্যাবের মাইক্রোবাস ট্রাকটিকে ধাওয়া করে ময়মনসিংহের সিডস্টোর এলাকায় এসে সেটিকে আটকায়। কিন্তু ট্রাকচালক ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় ভালুকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক ট্রাক চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।
কনস্টেবল ইদিস মোল্লা ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পরে ২০১৯ সালের ৩০ মে প্রেষণে র্যাবে যোগদান করেন তিনি। র্যাবের পক্ষ থেকে নিহত ইদ্রিস মোল্লার স্ত্রীকে ১ লাখ টাকা ও তার পিতাকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি