বিজ্ঞান লেখক অভিজিত্ রায়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করবে আদালত। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করে দেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির সাংবাদিকদের জানান, আজ রায় ঘোষণা করবে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ছয় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে জঙ্গি কায়দায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক অভিজিত্ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান তার স্ত্রী বন্যা। পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিত্। বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি মুক্তমনা ব্লগ সাইট পরিচালনা করতেন তিনি। জঙ্গিদের হুমকির মুখেও তিনি বইমেলায় অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন। ঘটনার পর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অধ্যাপক অজয় রায় (বর্তমানে প্রয়াত)। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হাত ঘুরে মামলাটির তদন্তভার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হাতে যায়।
হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ছয় জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার আসামিরা হলেন : সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ এবং উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী। আসামিদের মধ্যে ফারাবী ছাড়া বাকি সবাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। জিয়া ও আকরাম পলাতক। বাকি সবাই কারাগারে।