মিয়ানমারে ক্ষমতা ধরে রাখতে ‘ভাগ করো, শাসন করো’ নীতিতে সেনাশাসক

মিয়ানমারে ক্ষমতা ধরে রাখতে ‘ভাগ করো, শাসন করো’ নীতিতে এগুচ্ছে সেনাসরকার। তারা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যদের সরকারে স্থান দিয়ে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। রবিবার নবম দিনের বিক্ষোভে ট্যাংক মোতায়েনসহ এক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটেছে। তার পরও গতকাল ভয়কে উপেক্ষা করে সাঁজোয়া যান ঘিরেই বিক্ষোভ হয়েছে। রাতে চলছে গ্রেফতার অভিযান। বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বাধ্য করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। নতুন আইন করে বিক্ষোভকারীদের ২০ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সরকার। খবর বিবিসি, ডেইলি মেইল ও আলজাজিরার

‘ভাগ করো, শাসন করো’ নীতিতে সরকার

মিয়ানমারের নৃতাত্ত্বিক দল থেকে সরকারে পদ দিচ্ছে সেনাসরকার। কায়েন পিপলস পার্টির মাহন নেইন মংকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। গত নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি এনএলডি দলের প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। তাকে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলে (এসএসি) নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি ছাড়াও আরো তিন জনকে সেনাসরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাচ্ছে। এর মাধ্যমে এনএলডির বিরোধী একটা গোষ্ঠী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী। সরকার নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

কঠোর অভিযানের ইঙ্গিতগুলো কী কী?

মিয়ানমার জুড়ে লাখ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে টানা নবম দিনের মতো বিক্ষোভ করছে। কাচিন রাজ্যের মাইতকাইনা শহরে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সহিংসতার সময় গুলির আওয়াজ শোনা গেছে। তবে রাবার বুলেট, নাকি তাজা গুলি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচ জন সাংবাদিকও রয়েছেন।

ইয়াঙ্গুনে সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো রাস্তায় সশস্ত্র সাঁজোয়া যান দেখা গেছে। কিন্তু সাঁজোয়া যান ঘিরেই গতকাল সোমবার বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সেখানে প্রকৌশলী এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা মিছিল করেছে। রাজধানী নেপিডোতে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেছে অনেককে। মিয়ানমারের টেলিকম অপারেটররা জানিয়েছে, তাদের স্থানীয় সময় রবিবার রাত একটা থেকে সোমবার ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেটব্লক নামে একটি মনিটরিং গ্রুপ জানিয়েছে, নির্দেশনা বাস্তবায়নের পর ইন্টারনেট তথ্য ব্যবহারের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ ছিল। নেপিডোর এক চিকিত্সক বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী রাতে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। গতকাল মান্দালয় শহরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে জোর করে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিতে দেখা যায়।

‘আমি এখনো উদ্বিগ্ন, কারণ তারা রাতের বেলা ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে রেখেছে যাতে মানুষ বের হতে না পারে। কিন্তু এটাই একমাত্র সময় যখন পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী মানুষজনকে আটক করতে পারে’, বলেন ঐ চিকিত্সক যিনি নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি। এর আগের দিন তারা চোরের মতো বেড়া কেটে মানুষের বাড়িতে হানা দিয়েছে, বেআইনিভাবে তাদের আটক করেছে। আর এ জন্যই আমি উদ্বিগ্ন, হ্যাঁ, বলেন তিনি।