ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক আরো বহু দূর এগিয়ে নিতে চাই। যাতে পারস্পরিক কল্যাণ ও উন্নয়ন সমানতালে এগিয়ে যায়। ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু ও অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব। এ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই।’ গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমে কূটনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ডিকাবের সভাপতি পান্থ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীন।
বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় সব ইস্যু প্রাধান্য পাবে। সম্পর্কের ঐতিহাসিক উপাদান, সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা, জ্বালানি ও উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হবে। আমাদের বন্ধুত্ব সুসংহত করে ৫০ বছরে এগিয়ে নিতে যেতে হবে। কেননা, আমরা মনে করি, আমাদের বিশেষ বন্ধু বাংলাদেশ শক্তিশালী উন্নয়ন অংশীদার।’
তিনি বলেন, ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ভারতের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি অগ্রগতির জন্য ভারত কাজ করছে। এ দুই প্রতিবেশী দেশের গভীর বন্ধুত্বের বন্ধন ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষিত। ভারত সব সময়ই পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের নীতিতে বিশ্বাস করে। কখনোই বড় ভাইসুলভ আচরণ করে না। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতেও দুই দেশ কাজ করছে। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করতে বিএসএফকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এর আগে যেসব হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাধারণত রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটেছে। এই সময়টাতে সীমান্ত অপরাধের কিছু ঘটনা ঘটে এবং ভারতের বিএসএফ সদস্যরাও প্রায়ই আক্রান্ত হয়।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে কখনোই সন্দেহ থাকা উচিত নয়। বরং সন্দেহ থেকে বের হয়ে এসে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত করলে দুই দেশের জনগণই উপকৃত হবে। ভারত সব সময়ই চায় বাংলাদেশের অগ্রগতি হোক। বাংলাদেশ অসফল হোক, এটা ভারত কখনোই চায় না।
বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে যখনই ভ্যাকসিন উত্পাদন হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে তা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যও সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণ একই সঙ্গে ভ্যাকসিন পেয়েছে। এটাই প্রমাণ করে, ভারতের প্রতিবেশী নীতিতে বাংলাদেশই সবার আগে।