কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত পলাতক পিকে হালদারের অন্যতম সহযোগী ছিলেন তার আয়কর আইনজীবী সুকুমার মৃধা। অর্থ পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা আছেন কারাগারে। এই মামলার আসামি হয়েছেন তার স্ত্রী তাপসী রানী শিকদার, যিনি সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল অফিসার, সিএডি (অপারেশন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দুদকের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তাপসী বলেছেন, আমি ও আমার স্বামী এবং দুই মেয়ের সবারই বিদেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। ঐ দেশে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণের যাবতীয় অর্থ বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে তা আমার স্বামী জানে। আমার নামে অর্জিত বিদেশে জমি ও ভবনের তথ্যাদি বাংলাদেশে আমার আয়কর নথিতে প্রদর্শন করা হয়নি।
প্রায় ২১ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৬১ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ব্যাংক কর্মকর্তা তাপসী বলেছেন, আমার দুই মেয়ে অতসী হালদার ও অনিন্দিতা মৃধা। বড় মেয়ে অতসী বর্তমানে বিদেশে থাকে। ছোট মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা বাংলাদেশে থাকে। সে উইনটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের একজন পরিচালক। আমার স্বামীর সঙ্গে পিকে হালদারের পরিচয় ছিল। তিনি আমার ঢাকার বাসায় বেশ কয়েকবার এসেছেন। আমার স্বামী পিকে হালদারের ব্যক্তিগত ও তার বিভিন্ন কোম্পানির আয়কর নথি দেখাশুনা করত।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সুকুমার মৃধা, তার স্ত্রী ও এক মেয়ে এবং স্বপন কুমার মিস্ত্রী ও অসীম কুমার মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়, অসত্ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশেবিদেশে অবৈধ পন্থায় সুকুমার তার নিজ নামে ও অন্যদের নামে-বেনামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২০ কোটি ৭০ লাখ ৮ হাজার ৮৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই অর্জিত অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে পাচার করে মানি লন্ড্রারিং আইনে অপরাধ করেছেন।
মামলার জিজ্ঞাসাবাদে তাপসী আরো বলেছেন, ঢাকার শান্তিনগরে আমাদের কেনা একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। উক্ত ফ্ল্যাটের অর্ধেক মালিকানা আমার। বিদেশে আমার নামে পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে। সেখানে নির্মিত দুই তলা ভবনের অর্ধেক মালিকানাও আমার। এছাড়া বাগেরহাটের কচুয়াস্থ আন্দারমানিক এলাকায় আমার নামে প্রায় আড়াই একর জমি রয়েছে। বিদেশে জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণ ও নাগরিকত্ব গ্রহণের বিষয়টি আমার চাকরিদাতা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। এদিকে, অর্থ পাচার মামলায় হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন চান তাপসী। কিন্তু তাকে আগাম জামিন না দিয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।