‘কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমাদের ডুবে মরতি হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে আমরা সাত-আট মাস বাড়িতে থাকতি পারি নে। বাকি তিন-চার মাস থাকে পোকামাকড়ের উপদ্রব। কপোতাক্ষ নদ খনন করলি আমাগের আর ডুবে মরতি হবে না। তখন আমাগের আর কোনো সমস্যাও থাকবে না।’ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব গৃহবধূ জুলেখা বেগম এভাবেই তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি ইউনিয়নের একটি গ্রাম বাঁকা। এই গ্রামের উত্তর পাশে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার দরগাপুর ইউনিয়নের দরগাপুর, শ্রীধরপুর, হোসেনপুর ও খরিয়াহাটি গ্রাম। খুলনার পাইকগাছা আর সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলাকে বিভক্ত করেছে কপোতাক্ষ নদ। বাঁকা গ্রামে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। ভোটারের সংখ্যাও ৪ হাজারের বেশি।
এই গ্রামের পাশের বিলটির নাম ‘বাঁকার চর’। এই বিলে বছরে দুবার ধান পেয়ে গ্রামবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই বসবাস করতেন। তবে সমস্যা শুরু হয় ২০০৬ সালে বিলের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায়। বিলের পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গ্রামের বাড়িঘর সাত-আট মাস বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকে। ঘরের মধ্যে মাচা করে বসবাস করতে হয় মানুষকে। গ্রামবাসীর খাদ্য জোগানোসহ বেঁচে থাকার অবলম্বন ‘বাঁকার চর’ বিলটির প্রায় ২ হাজার বিঘা জমিও বর্ষার পানিতে ডুবে থাকে। ফলে এক যুগের বেশি সময় ধরে এই বিলের ফসল থেকে বঞ্চিত বাঁকা গ্রামের প্রায় ৬০০ মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, ২০০৬ সালে জলাবদ্ধতার আগে বছরে দুবার ধান হতো। এর মধ্যে শ্রাবণ থেকে অগ্রহায়ণ মাসে হতো আমন ধান। আর পৌষ থেকে চৈত্র মাসে ফলত বোরো ধান। এছাড়া ঘেরে চাষ হতো বাগদা চিংড়ি। কিন্তু এখন তার কোনো কিছুই আর হয় না। এক যুগের বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে বাঁকা গ্রামের চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। বছরের বেশির ভাগ সময় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে এই গ্রামের মৃত মানুষকেও কবর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মিলছে না। রাড়ুলি ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ গোলদার বলেন, কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বাঁকা গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধ থাকে। অনেকের বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি