মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে গত এক বছরে কমেছে ২ হাজার ৩৮৭ হেক্টর আবাদি জমি। জেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালেই কমেছে চার ভাগ জমির পরিমাণ। মেহেরপুর জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৬৭৩ হেক্টর। বর্তমানে রয়েছে ৫৭ হাজার ২৮৬ হেক্টর। জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেখা গেছে, অপরিকল্পিত পুকুর খনন, ইটভাটায় মাটি বিক্রি, জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে কমছে এসব আবাদি জমি। তবে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করাকে। মেহেরপুরে ছোটবড় মিলে ১১৪টি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার মালিকেরা চড়া দামে কৃষিজমির মালিকের কাছ থেকে চড়া দামে মাটি কিনে নিচ্ছেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের কাউসার, বাড়িবাকা গ্রামের বাবু হাজী, একই গ্রামের বিপ্লব, সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কাজল বিভিন্ন সময় তাদের কৃষিজমি থেকে মাটি বিক্রি করেছেন। এছাড়া মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর-তারানগর মাঠে ৩৩ বিঘা জমির মাটি বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে গাংনী উপজেলায় মাটি বিক্রির পরিমাণ আরো বেশি। এই উপজেলার বাবুরপাড়া, জোড়পুকুরিয়ায় চলছে মাটি কাটা।
গোভীপুর গ্রামের কাউসার, বাড়িবাকা গ্রামের বাবু হাজি, একই গ্রামের বিপ্লবসহ কয়েক জন জমির মালিক জানান, প্রত্যেক দিন ৮০ থেকে ১০০ গাড়ি মাটি উত্তোলন করে সেই মাটি ট্রাক্টর দিয়ে বহন করে নেওয়া হচ্ছে আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায়। মাটি কাটার কারণে তাদের ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, ‘জমির পরিমাণ কমে যাওয়াটা উদ্বেগজনক। মেহেরপুর যেহেতু কৃষিনির্ভর এলাকা, সেহেতু কৃষিকে বাঁচাতে হলে অবৈধভাবে জমির চরিত্র বদল করা বন্ধ করতে হবে।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মুনসর আলম খান বলেন, ‘কৃষিজমি কমে যাওয়াটা ভাবনার বিষয়। সে ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছি। যেহেতু কৃষিজমি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইটভাটায় মাটি বিক্রি, সেদিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকার ইটের পরিবর্তে কংক্রিটের ব্লক তৈরির ব্যাপারে ভাবছে। এই ব্লক সিস্টেম চালু হলে ইটের ব্যবহার কমবে, এতে মাটির ব্যবহারও কমবে।’