সেবা কার্যক্রম ব্যাহত
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
নিকলীর সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের তিনটিতেই ভবন নেই। এতে পরিষদ থেকে সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাদিন্দারা। উপজেলার দামপাড়া, কারপাশা, জারুইতলা ও গুরুই ইউনিয়নে ইউপি কমপ্লেক্স ভবন আছে। আর নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব সাত শতাংশ জায়গায় দুটি টিনশেড ঘরে কোনোরকমে কাজ চালাচ্ছে এবং ছাতিরচর ও সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের বাড়িতে।
সিংপুর ইউনিয়নের গোড়াদীঘা গ্রামের কৃষক ইসরাইল মিয়া জানান, তাদের ইউনিয়নে পরিষদের কোনো কার্যালয় নেই। কোনো সেবা পাওয়ার জন্য তাদের পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাটিবরাটিয়া গ্রামে চেয়ারম্যানের বাড়িতে অস্থায়ী কার্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল, কৃষিবিষয়ক পরামর্শ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে গিয়ে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।
নিকলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহম্মেদ তুলিপ বলেন, ইউপি ভবন না থাকায় পরিষদের বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তবে পরিষদের জায়গা কেনা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ভবন নির্মাণ করা হবে।
ছাতিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ছাতিরচরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব জায়গা না থাকায় আমার বাড়ির একটি ঘরে পরিষদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ইউনিয়নে শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষিসহ মোট ১৩টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। কিন্তু ভবন না থাকায় এসব কমিটির কার্যক্রমের কোনো সুফল এলাকার লোকজন পাচ্ছেন না। সিংপুর ইউপির সচিব মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কোনো জায়গা না থাকায় চেয়ারম্যানের একটি ঘরে কোনোরকমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না বলেন, সিংপুর ইউনিয়নে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। আর ছাতিরচর ইউনিয়নের জায়গা সংকট এবং নিকলী সদর ইউপি ভবন নির্মাণের জন্য জমি কেনা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে কমপ্লেক্স ভবন না থাকায় জনসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।