গাজীপুরের শ্রীপুরের ঐতিহ্যবাহী লবলং খালের পানি আগে থেকেই দূষিত। গত দু সপ্তাহ ধরে এই খালের পানির প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে জনসাধারণের জমি বলে রাস্তা করার কারণ দেখিয়ে। স্থানীয় এক দৈনিকের তথ্য মতে প্রায় আড়াই শ কৃষকের জমি এখন লবলংয়ের দূষিত পানির মধ্যে। দু পক্ষ দু কারণে বাঁধ দিয়েছে। এক পক্ষ বলছে খালটি তাদের জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং অন্য পক্ষের দরকার রাস্তা। এই বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের সর্বস্তরে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাঁধ অপসারিত হয়নি পুরোপুরি। এ অবস্থায় লবলং পরিবেশদূষণ ও মানববসতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শ্রীপুর অঞ্চলে অনেক আগে থেকেই পানির পিএইচের মান ছয়ের নিচে চলে আসে শুকনো মৌসুমে। এভাবে দূষিত পানির বিস্তার ইকোলজিক্যাল ব্যলেন্সে কী ধরনের ভয়ানক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে তার কোনো পরিসংখ্যান বা পরীক্ষা আমাদের হাতে নেই। তবে কম্পোজিট দূষিত পানি তার সঠিক মান-মাত্রার বাইরে দূষণ করছে—এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। পরিবেশ অধিদপ্তর, গাজীপুর স্থানীয় এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবে বলে জানা গেছে।
লবলং দখলমুক্ত করা হোক। আমাদের চাওয়া খালটির বহমানতা। এখানে কার জমি আছে, কে আগে জমি ব্যবহার করত—বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব সহকারী কমিশনার, ভূমি ও স্থানীয় প্রশাসনের। খালের জমি উদ্ধার করে খালের প্রবাহমানতা রক্ষা করা না গেলে এ অঞ্চলের কৃষি তো ধ্বংস হবেই, সঙ্গে সঙ্গে জলজ ও স্থলজ ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে মারাত্মকভাবে, সেইসঙ্গে মানবস্বাস্থ্যও। লবলং খালের সীমানা নির্ধারণ করে চলমান খনন কাজটির টেকসই উন্নয়নে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সাঈদ চৌধুরী, শ্রীপুর, গাজীপুর