রেকর্ড জয়ে সমতা ফেরাল ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক

মিসবাহ উল হকের  কাছ থেকে একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য ঋষভ পান্তর। কুলদ্বীপ যাদবের বলে এই উইকেটকিপার মঈন আলীকে স্ট্যাম্পিং না করলেও হয়তো নতুন করে লেখা হতো টেস্টে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটি। ছয় বছর আগে যা গড়েছিলেন মিসবাহ (২১ বলে)। শেষ পর্যন্ত  অক্ষুণ্নই রইল সেটি।

১৮ বলে ৩ চার ও ৫ ছয়ে  ৪৩ রান করা মঈনকে ফিরিয়েই চেন্নাই টেস্টে জয়ের উল্লাসে মাতে ভারত। ইংল্যান্ডের ৩১৭ রানের রেকর্ড জয়ে চার ম্যাচ সিরিজের দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে তারা। রানের ব্যবধানে এটাই ভারতের কাছে ইংলিশদের সবচেয়ে বড় হার। অবশ্য জয়ের ক্ষণটা স্বাগতিকরা গুনছিল দ্বিতীয় দিন থেকেই। উইকেট নিয়ে ধেয়ে সমালোচনার ঢেউগুলোর কোনো পাত্তাই দেয়নি কেউ। দেখিয়ে দিয়েছে সাপের মতো প্যাঁচ নেওয়া উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হয়। উদাহরণটা যে রবিচন্দ্রন অশ্বিন দেখাবেন তা হয়তো কল্পনাই করেনি ইংলিশরা! দ্বিতীয় ইনিংসে আটে নেমে যে সেঞ্চুরিটা করেছেন তা একজন প্রকৃত ব্যাটসম্যানের জন্যও শিক্ষণীয়। এমনকি নিজের বোলিংয়েও ছিলেন আপ টু দ্য মার্ক। ৮ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা উঠেছে চেন্নাইয়ের ঘরের ছেলের হাতেই। এর আগে ৪৮২ রানের লক্ষ্যে ৩ উইকেটে ৫৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। অশ্বিনসহ অক্ষর প্যাটেল ও কুলদ্বীপ যাদবের ঘূর্ণিতে ১৬৪ রানেই অল আউট হয় তারা। তবে অভিষিক্ত প্যাটেলের কথা আলাদা করেই বলতে হয়। ৬০ রানে ৫ উইকেটে নিয়েই নিজের জাত চেনান এই বাঁহাতি স্পিনার। প্রথম টেস্টের হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ভক্তদের সমর্থনের বিকল্প ছিল না। যাদের গলা ফাটানো স্লোগানে দেবে যায় প্রতিপক্ষ শিবির। তাই তাদেরকে কৃতিত্ব দিতে ভুললেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি বলেন, ‘অনেকদিন পর ঘরের মাঠে খেলতে নামার পর অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। কারণ প্রথম টেস্টে গ্যালারি ফাঁকা ছিল। হয়তো সেই জন্যই সেই টেস্টের দুই দিন আমরা কেমন যেন গুটিয়ে ছিলাম। দর্শকদের চিত্কার কানে না এলে শরীর গরম হয় না। আসলে স্টেডিয়ামে দর্শক না থাকলে মাঠে মজা পাই না।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর : ভারত : ৩২৯ ও ২৮৬

ইংল্যান্ড : ১৩৪ ও (লক্ষ্য ৪৮২) ৫৪.২ ওভারে ১৬৪ (আগের দিন ৫৩/৩) (লরেন্স ২৬, রুট ৩৩, স্টোকস ৮, পোপ ১২, ফোকস ২, মঈন ৪৩, স্টোন ০, ব্রড ৫*; প্যাটেল ৬০-৫, অশ্বিন ৫৩-৩, কুলদ্বীপ ২৫-২)।

ফল : ভারত ৩১৭ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : রবিচন্দ্রন অশ্বিন।