পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে গৃহবধূ লাভলী আক্তারকে (২২) গলা টিপে হত্যা করে স্বামী শাহাদাত হোসেন। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে শাহাদাত। সোমবার চাঁদপুরের কচুয়ার বাঁচাইয়া বিল থেকে উপজেলার সহদেবপুর গ্রামের মোকশেদ আলীর মেয়ে লাভলী আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিন বছর পূর্বে মনপুরা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শাহাদাতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা ঢাকায় বসবাস করত।
জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, শাহাতাদের দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী। প্রথম সংসারে তার দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও প্রেম করে লাভলীকে বিয়ে করে। শাহাদাতের প্রথম স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে থাকে। লাভলী নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় গার্মেন্টসে কাজ করত। বাসাও ছিল ঐ এলাকায়। মাস দেড়েক আগে রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় এক আত্মীয়ার বাসার কাছাকাছি বাসা ভাড়া নেয় লাভলী।
ওসি জানান, সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন লাভলী গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রায়েরবাগের বাসা থেকে বের হয়। শাহাদাত তাকে অনুসরণ করে একই বাসে ওঠে। বাসের মধ্যেও দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বাস থেকে নেমে সিএনজিতে ওঠে। কিন্তু সিএনজি থেকে নামার পর হেঁটে বাড়ি যাবার পথে শাহাদাত হোসেন লাভলী আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেয়। এ ঘটনায় লাভলীর মা খোশনেয়ারা বেগম শাহাদাত হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরো বলেন, আটকের পর পরই শাহাদাত হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। পরে গতকাল চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।