জানুয়ারিতে এই অঞ্চলের রাজধানী লাসার উপকণ্ঠে বসবাসরত এক ইয়াক-পালকের চিঠির জবাব দিয়েছেন টি হি কমিউনিস্ট পার্টির তিব্বতের প্রধান উ উয়িংজি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, লেখক সোনম ত্রাসিং চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের “সুখী জীবন” ও পার্টির প্রতি “সূর্যের মতো উষ্ণ” যত্নের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
উ লিখেছিলেন যে তিব্বতিদের অবশ্যই "ধর্মীয় ব্যবহার হ্রাস" করতে হবে, দালাই লামার "নেতিবাচক প্রভাব" এবং "দলের পথ অনুসরণ" করতে হবে। তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ছয় বছর বয়সে, ১৯৯৫ সালে আটক করে চীনের কর্তৃপক্ষ। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী রাজনৈতিক বন্দি বলে মনে করা হয়। এরপর ২৪ বছর পার হয়ে গেলেও তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। আর এই ব্যাপারটি এই ধর্মকে একটি জটিলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তিব্বতের বুদ্ধরা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন। যখন এই ধর্মের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ গুরু পাঞ্চেন লামা ১৯৮৯ সালে রহস্যজনক কারণে মারা যান (অনেকে মনে করেন যে, চীনা সরকার তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেছে), তখন তার পুনর্জন্ম ছিল কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
চীনের সরকার আশা করছিল, দালাই লামার সহযোগিতা ছাড়াই নতুন পাঞ্চেন লামাকে খুঁজে পাওয়া যাবে, যিনি ১৯৫৯ সালে তিব্বত ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখানে প্রবাসী তিব্বতি সরকার গঠন করেন।
১৯৯৫ সালের ১৭ই মে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি গিনডু চোকি নিমাকে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, তিনি এখন চীনের উত্তরাঞ্চলের গ্যানসুতে বসবাস করেন। আরেকটি ধারণা হলো যে, তাকে বেইজিং এর আশেপাশে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে।
২০০০ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিন কুক হাউজ অফ কমন্সের বৈদেশিক সম্পর্ক নির্ধারণ কমিটিকে বলেছেন, ''যতবার আমরা গিনডু চোকি নিমার সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছি, চীনের সরকার আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তিনি সুস্থ শরীরে রয়েছেন এবং তার যত্ন নেওয়া হচ্ছে। তবে তার পিতামাতা এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চান না।''
ইসলাম ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের ‘সিনিসাইজেশনের’ এই প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে জিন জাইপিং-এর আমল থেকে ইসলাম ধর্মাচরণ চিনের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ। নমাজ পড়া, রোজা রাখা, দাড়ি রাখা বা মহিলাদের হিজাব পরা এইসব অঞ্চলে গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ।
রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, চিনে প্রায় দশ লক্ষের বেশি উইগুর মুসলিমকে বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি রেখে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করা হয়েছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, চিন ‘এথনিক ক্লেনসিং’ বা জাতিগত শুদ্ধিকরণের মতো গর্হিত কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে গত অগাস্টে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ সম্পাদকীয় মন্তব্যে লিখেছিল, “বিশ্ব এই মুসলিম-বিরোধী প্রচারের বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না”।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, চিনে বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মসজিদ থেকে ইসলামিক স্থাপত্যের নিদর্শন মুছে দেওয়া হয়েছে।অ্যারাবিক ভাষার ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ধর্মবিষয়ক ক্লাসও। বাচ্চাদের ইসলাম ধর্মাচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চিন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সদাসচেষ্ট।
তবে তিব্বতি অঞ্চলের কর্মকর্তারা জিনজিয়াংয়ের সবচেয়ে খারাপ নৃশংসতার প্রতিরূপ তৈরি করতে পারেন নি, যেটিকে আমেরিকা আন্তরিকভাবে "গণহত্যা" নামে অভিহিত করেছে, প্রবাসে বসবাসকারী এই গোষ্ঠীর এক সদস্য বলেছেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কর্মকর্তারা তিব্বতের সীমান্তবর্তী গানসু প্রদেশের একটি বিহার শহর এবং জিয়াহে থেকে তিব্বতিদের ওয়েচ্যাট গ্রুপের কয়েক ডজন বা শত শত সদস্যের মোবাইল ফোন জব্দ করেছিলেন।
এছাড়াও শিকাৎজে বিমানবন্দরের দক্ষিণে পরিকাঠামোর উন্নতি করা হচ্ছে। যা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সঙ্গে রেল টার্মিনালকে যুক্ত করেছে। সেই লজিস্টিক হাব পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) পরিকাঠামোর অন্তর্গত বলে মত বিশেষজ্ঞদের। উপগ্রহ চিত্র থেকে অনুমান, মাটির নীচেও একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। আগেও উপগ্রহ চিত্রে সেই কেন্দ্রের অস্তিত্ব মিলেছিল। সঙ্গে দুটি জায়গা থেকে বিশেষজ্ঞ অনুমান করেছিলেন, সেই দুটি সম্ভবত সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ। তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলে চিন বৃহদাকারে যে পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তা উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। নয়া উপগ্রহ চিত্র দেখে মনে করা হচ্ছে যে আকসাই চিন থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সামরিক কাজকর্মের সেই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএইচপি