সুগন্ধা নদীতে হঠাত্ ভাঙন

ড্রেজারে বালু তোলার অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি শহরের গুরুধাম এলাকায় সুগন্ধা নদীর হঠাত্ ভাঙনে আধা কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে শুরু হওয়া ভাঙনে এরই মধ্যে বসতঘর ও অসংখ্য গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরো প্রায় চার কিলোমিটার। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, ঝালকাঠির একটি বালু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে চলেছে।

জেলা যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন বলেন, ‘হঠাত্ করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঘরবাড়িসহ গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকায় ড্রেজারে বালু তোলার কারণে ভাঙন আরো তীব্র হয়েছে।’ গুরুধাম এলাকার বাসিন্দা হাশেম আলী ও জয়নাল খা জানান, ভাঙন কয়েক দিন ধরে চলছে। সুগন্ধা ও বিশখালী নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজারে বালু তোলার কারণে দুইপাড় ভেঙে যায়। স্রোতের সঙ্গে ভাঙন আরো তীব্র হয়। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মঙ্গলবার থেকে ভাঙন শুরু হলেও তীব্রতা ছিল কম। বুধবার দুপুরে আকস্মিকভাবে গুরুধাম এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে মোনাছেফ হাওলাদারের বসতঘর নদীতে তলিয়ে যায়। মোনাছেফ হাওলাদার বলেন, ‘ঘরের ভেতরের কিছু মালামাল রক্ষা করতে পারলেও বসতঘরটি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে গাছপালা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।’ দেখা গেছে, বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষ্ণকাঠি বাসস্ট্যান্ড, একটি বালির খোলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শত বসতঘর। যে কোনো সময় ভাঙনে আরো স্থাপনা নদীতে বিলীনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক চন্দ্র দাস বলেন, ‘নদীভাঙনের খবর পেয়ে একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেকুন্নাহার বলেন, ‘সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। বেশকিছু এলাকায় ঘরবাড়ি ও গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে আরো ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। ভাঙনের ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’