নতুন প্রজন্মকে দেশের স্বাধীনতার পূর্বাপর অবস্থার কথা জানাতে হবে ------ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন,  নতুন প্রজন্মকে দেশের স্বাধীনতার পূর্বাপর অবস্থার কথা জানাতে হবে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন  হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তার আদর্শ, নির্দেশনা ও প্রদর্শিত পথে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করেছি। বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্ম যাতে দেশের কথা চিন্তা করে আগামীতে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারে, তার পরিবেশ ও পথ আমাদেরই দেখাতে হবে।

তিনি গতকাল বুধবার বিকালে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়নি। আমরা যদি দ্বন্দ্ব-সংঘাত না করতাম, তাহলে দেশে আরো পরিবর্তন অর্জিত হতো।  বাংলাদেশ আজ মূল সড়কে উঠে গেছে। নতুন প্রজন্ম নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। তারা দেশ-বিদেশে লেখাপড়া করছে এবং বিদেশে শিক্ষা অর্জন করে দেশে ফিরে আসছে। তাদের মধ্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি জন্ম নিয়েছে। এই ধারণাকে ভিত্তি করে ভিন্ন ধরনের যে ভবিষ্যত্ গড়ে উঠছে সেখানে অতীতের অভ্যাস বদলে যাবে। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতার কোনো মূল্য থাকে না।

তিনি আরো বলেন, ঐকমত্য থাকলে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়। উন্নয়নের জন্য এক থাকতে হয়। ১৯৮৪ সালে তিনি যখন প্রথম এই দক্ষিণাঞ্চলে আসেন তখন কাউখালীর এই কেউন্দিয়া গ্রামের হাইস্কুল থেকেই স্থানীয় সুধী সমাজের সঙ্গে এরকম একটি বড় সভায় তিনি মিলিত হয়েছিলেন। সেই সভার কথা তার মনে সুখস্মৃতি হয়ে আছে। আজকের এই কেউন্দিয়া সুধী সমাবেশ হয়তো এখানকার মানুষের সঙ্গে  জীবনের শেষ সমাবেশ কি না, তা আল্লাহ জানেন। আজকে আমি কেউন্দিয়ায় গাড়িরবহর নিয়ে এসেছি। ৩৬ বছর আগে এসেছিলাম একটি স্পিডবোটে চড়ে। সেদিন পানির অভাবে খাল শুকিয়ে যাওয়ায় আটকে গিয়ে ছিলাম। এখন এ গ্রামে রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট গড়ে ওঠায় ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীসহ দেশের যে কোনো স্থান থেকে আসা যায়। খালেও পানি আছে, রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি খাল খনন-পুনর্খনন হয়। বিগত ৩৬ বছরে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা দেশে যোগাযোগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকায় এই পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উন্নয়নের পক্ষে থাকতে হবে। উন্নয়ন কাজ করতে হলে শুধু দাবি-দাওয়া, আবেদন-নিবেদন করেই বসে থাকলে চলবে না। কাজের পেছনে লেগে থাকতে হয়। পদ্মা সেতুতে অচিরেই যানবাহন চলবে, আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সে স্বপ্ন দেখি। আমরা রীতিমতো বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ও অটল মনোভাবের কারণে দেশবাসী পদ্মা সেতু পেয়েছি। আমাদেরও উন্নয়ন কাজের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় দুই বারে ১০ বছর এবং এরশাদ সাহেবের মন্ত্রিসভায় সাত বছর মন্ত্রিত্ব করার অভিজ্ঞতা থেকে এ কথা বলতে পারি—উন্নয়ন হচ্ছে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আজকে দেশের বার্ষিক আয় ৪ লাখ হাজার কোটি টাকা। বিগত একটি সরকারের অর্থমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন সরকারের হাতে অর্থ নেই, কীভাবে দেশ চলবে। সেদিন আমরা সংসদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলাম, মানুষের দেওয়া পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ রাজস্ব দ্বারা দেশ চলে। এই অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হয়। দুর্নীতি-অপচয় থাকলে অর্থের অভাব হয়।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, স্বাধীন দেশে প্রতিটি সরকারের দায়িত্ব থাকে উন্নতি করার। আমরা এই কাজ না করে অতীত সরকারগুলোর পতন বা পরিবর্তনের পর তাদের বিষয়ে কুত্সা, চরিত্রহরণ, গিবত, নিন্দায় মুখর থাকি—যা কাম্য নয়। অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা করতে হবে।   

বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিদুল ইসলাম দুলালের সভাপতিত্বে উক্ত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম নসু, কাউখালীর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রশীদ মিল্টন, সমাজসেবী আব্দুল লতিফ খসরু প্রমুখ।

এ সময় সভামঞ্চে ছিলেন উপজেলা জেপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. খালেদা খাতুন রেখা, কাউখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা সিকদার মো. দেলোয়ার হোসেন, আমরাজুড়ি  ইউপি  চেয়ারম্যান শেখ শামসুদ্দোহা চান, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ, জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

সুধী সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন: কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন ও যুগ্ম সম্পাদক সুনীল কুন্ডু, জেপির যুগ্ম সম্পাদক খান মো. বাচ্চু, জেপির যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান নান্নু, জেপির যুগ্ম সম্পাদক নেপাল চন্দ্র দে, জেপির সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন জেপির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি জিয়াউল হাসান জুয়েল ও  সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান মনু, ছাত্রসমাজের উপজেলা সভাপতি তারিকুল ইসলাম কাইয়ুম শেখ ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ প্রমুখ।

রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি কাউখালী উপজেলা কাঠালিয়া বাসস্ট্যান্ডে এক স্বতঃস্ফূর্ত জমায়াতে যোগ দেন। এ সময় জেপি নেতা নূরুল আমীনের নেতৃত্বে স্থানীয়  বহু মুরুব্বি ও গ্রামবাসী তাকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালীর বিশিষ্ট সমবায়ী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। 

কাউখালীতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির সফরসঙ্গী ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাণ্ডারিয়ার পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক কায়ছারুল ইসলাম মালকার, জেলা পরিষদ সদস্য ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, উপজেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার  প্রমুখ।

এরপর আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া-শাহাপুরা হতে কাউখালী-ঝালকাঠি আরএন্ডএইস ভায়া আউয়াল মিয়া সড়কে ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের নবনির্মিত আরসিসি গার্ডার সেতু শুভ উদ্বোধন করেন। এর আগে তিনি উপজেলার কেউন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন। এ  দুটি কর্মসূচিতে পৃথকভাবে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।