এই সরকারকে আর কোনো নির্বাচনের সুযোগ দেব না

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সরকার হটানোর একদফা আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা এই সরকারকে আর কোনো নির্বাচনের সুযোগ দেব না। নির্বাচন করে আবার ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আসবেন—এটা বাংলাদেশে হতে পারে না। আমরা বলতে চাই, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে রাজপথে নেমে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের যৌথ উদ্যোগে স্বৈরতন্ত্র ও মাফিয়াতন্ত্রের পতন এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সরকারি অপচেষ্টার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিমউদ্দিন আলম, নিপুন রায় চৌধুরী, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।

ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে অংশ নেন। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে ১১টা ৫৪ মিনিটে শেষ হয়। সকাল ৯টা থেকে তোপখানা রোড, জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় এই সমাবেশ। বরিশাল বিভাগ ছাড়া সারা দেশে মহানগর ও জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। খুলনায়ও কড়া পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান আপনার খেতাব শুধু নয়, আপনার জীবনের জন্যও হুমকি হতে পারে। কারণ ৭২ থেকে ৭৫ আওয়ামী লীগের লোকজনকে খুঁজে খুঁজে মেরেছে এই শাহজাহান। কারণ তিনি গণবাহিনীর একজন নেতা। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম জনগণের ধমনিতে বয়, তার মতো একজনের বীর খেতাব শাহজাহান খানের মতো একজন ডাকাত কেড়ে নিতে চায়। রিজভী আরো বলেন, পরিবহনের বাস যখন মানুষ চাপা দিয়ে মারে তখন সেটাকে শাহজাহান খান বৈধ মনে করেন। পরিবহনের বাস শিশুদের থেঁতলে দিয়ে যায় আর তিনি হাসতে হাসতে বলেন ‘এগুলো কিছুই না’।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, বিভিন্ন পৌরসভা-সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কীভাবে ভোট ডাকাতি করছে। আমরা এই সরকারকে আর কোনো নির্বাচনের সুযোগ দেব না।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, কারা সেই খেতাব কেড়ে নিতে চায়, যারা ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজ পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল, যারা কলকাতার থিয়েটার রোডে হোটেলের রুমে বসে যুদ্ধ করেছিল, তারাই রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়ার খেতাব কেড়ে নিতে চায়।