জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষককে অপসারণ

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানওয়ার সিরাজকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেটের সদস্য সচিব রহিমা কানিজ ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রহিমা কানিজ বলেন, গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। সানওয়ার সিরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর কোনো সুযোগসুবিধা পাবেন না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অপসারিত শিক্ষক সানওয়ার সিরাজ। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সানওয়ার সিরাজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত অধ্যাপক মামুন আকন্দ চাকরি ফিরে পেতে তার কথিত স্ত্রীকে  দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। মূলত ঐ ছাত্রীর অভিযোগ ছিল, আমি তাকে পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়েছি। এজন্য সে তার বন্ধুদের কাছে বলেছে, সে আমাকে দেখে নেবে। আমার প্রতি ছাত্রীর এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মামুন আকন্দ তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারিনী যেসব কল রেকর্ডিং এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারের স্কিনশর্ট সেলের নিকট জমা দিয়েছেন, তা বিকৃত করে উপস্থাপন করা। এই মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ নিয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে’র প্রধান আমার বিরুদ্ধে এক পাক্ষিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমি বিভিন্ন সময় এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে নানা ডকুমেন্টস উপস্থাপন করতে চেয়েছি। কিন্তু সেল তা গ্রহণ না করেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য এবং ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে’র প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।