বিয়ে এখন প্রায় সব ছেলেমেয়ের ওপর ফরজ হুকুমের ন্যায় একটি হুকুমে রূপান্তরিত হয়েছে যদিও হুকুম ভেদে, সুন্নাত, ওয়াজিব ও ফরজ হয়ে থাকে। কারন দিনে দিনে গুনাহের পরিবেশ আগের চেয়ে এখন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, না চায়তেই এখন মানুষ অনিচ্ছায় গুনাহের কাজে জড়িয়ে যেতে পারে। রাসুল (স) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তার উভয় রানের মধ্যবর্তী লজ্জাস্থান ও দুই চোয়ালের মাঝখানে ছোট একটি গোশতের জামিন হবে, তার জন্য আমি রাসুল (স) এর ওপর জান্নাত সুপারিশ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। (বোখারী ও মুসলিম শরীফ) এই হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল লজ্জাস্থানের হেফাজত করার গুরুত্ব কত অপরিসীম। আর বিবাহ হলো লজ্জাস্থান হেফাজতের একটি অন্যতম মাধ্যম।
রাসুল (স) হাদিসে বিবাহকে ইমানের অর্ধেক বলেছেন। কেউ যদি চায় স্বীয় ইমান আমলকে হেফাজত করতে সে যেন দ্রুত বিয়ে করে নেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, পুরুষের জন্য নারী লেবাস স্বরূপ এবং নারীর জন্য পুরুষ হলো লেবাস স্বরূপ। অর্থাত্ নারী-পুরুষের চরিত্র হেফাজতের জন্য বিবাহ হলো একটি অতি উত্তম মাধ্যম।
যাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সামর্থ্য আছে তাদের ওপর আবশ্যক হলো বালেগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ে করে নেওয়া, তা না হলে বিভিন্ন ফেতনায় জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। রাসুল (স) একটি হাদিসে এরশাদ করেন যে ব্যক্তির পর্যাপ্ত পরিমাণ ধন সম্পদ আছে, সে যেন বিবাহ করে। আর যে ব্যক্তির পরিমিত ধন সম্পদ নাই, সে যেন রোজা রাখে।
আপনি ভয় করছেন বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবেন কিন্তু স্বয়ং আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে এরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদেরকে বিবাহ করিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস দাসিদের মধ্যে যারা সত্কর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। এই আয়াতের শেষাংশে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, প্রাচুর্য না থাকলে তিনি দান করবেন। তার পরেও একশ্রেণির মানুষ বিবাহ করতে দ্বিধাবোধ করেন।
লেখখক :ইসলামী গবেষক