টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমানে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্স আশাব্যঞ্জক নয়। এর কারণ সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো
বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের কারণে এক বছরেরও বেশি সময় খেলার বাইরে থাকার পাশাপাশি মূল সিরিজের আগে কোনো ধরনের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ না খেলাটা পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার মূল প্রভাবক। এছাড়া নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা পেয়েও পিচের চরিত্রানুযায়ী দল গঠন করতে না পারা, যথাযথ পরিকল্পনা এবং সব বিভাগের সুসমন্বয়ের স্পষ্ট ঘাটতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের সামগ্রিক ফলাফলে। আবার, অধিকাংশ খেলোয়াড় যেমন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি, তেমনি ব্যর্থতার ছাপ দেখা গেছে ধৈর্যের পরীক্ষাতেও। সর্বোপরি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পেশাদারি মনোভাবের ঘাটতিও খর্ব শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কাছে লজ্জাজনক হোয়াইট ওয়াশের অন্যতম কারণ। ভালো খেলার জন্য সাধুবাদ দিলেও আশানুরূপ পারফরম্যান্স না হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতেও এমন ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে না।
আবু ফারুক
সদর, বান্দরবান
করোনা ইস্যুতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের অধিনায়কসহ সেরা ১০ জন তারকা ক্রিকেটার। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ সফরে আসতে আগ্রহী না হওয়ায় বাধ্য হয়েই জুনিয়র দলকে সফরে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। তুলনমূলক সেই দুর্বল দলটিই হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের শক্তিশালী দলকে। বেশ কয়েক জন সিনিয়র খেলোয়াড় ছাড়াই বাংলাদেশ সফরের আসা অনভিজ্ঞ ক্যারিবীয় দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়। তবে টেস্টে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। দলটির বেশ কয়েক জন খেলোয়াড়ের প্রথম টেস্ট অভিজ্ঞতাই হয়েছে এই সফরে। আর বাংলাদেশের জন্য দুই বা তার বেশি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১৫ তম হোয়াইটওয়াশ এটি, যা যে কোনো দলের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের হতাশাব্যঞ্জক পারফরমেন্সে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে নানা মত প্রকাশ পাচ্ছে। বোর্ড সভাপতি, তারকা অলরাউন্ডার সাকিব, হেড কোচ, বোর্ড পরিচালক, অপারেশন কমিটির প্রধান- সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে কেন সক্ষম নয় সেটিই প্রশ্ন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিকেএসপি নামক একটি মাত্র ক্রীড়াপ্রশিক্ষণ একাডেমির কারণে চাহিদার তুলনায় নগণ্যসংখ্যক খোলোয়াড় পাচ্ছি আমরা । অথচ ১৬ কোটি মানুষের দেশের আটটি বিভাগ ও ৬৪টি জেলায় অন্য কোন ক্রীড়া প্রশিক্ষণ একাডেমি নেই। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মেধাবী ও যুগোপযোগী খেলোয়াড় সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘাটতি ও অবহেলা চোখে পড়ার মতো। আমরা আশা করব প্রাথমিকভাবে আটটি বিভাগে সাভারের বিকেএসপির আদলে আটটি ক্রীড়া প্রশিক্ষণ একাডেমি অচিরেই খোলা হোক। পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে প্রতি জেলায় শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির মতো বিকেএসপির শাখা বা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হোক।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
করোনার ধাক্কা কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রবর্তনা তেমন সুখকর হয়নি। পূর্ণ শক্তির দল ছাড়াও দুই টেস্টের সিরিজের বাংলাদেশের ২-০তে হারিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। স্কিল আর মানসিকতার ঘাটতি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে আমাদের ক্রিকেট দলের।
অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন রবি
পুরানা পল্টন, ঢাকা
টেস্ট ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান, মোমিনুল হক, মুশফিক ছাড়া অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। তদুপরি ধৈর্যসহকারে ব্যাটিং করা একান্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে বেশি বেশি টেস্ট ক্রিকেটের আয়োজন করলে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়বে।
সবুজ চৌধুরী
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম
হোয়াইটওয়াশের লজ্জা সত্যিই দুঃখজনক । তামিম, সৌম্য, মুশফিক, মিঠুন, মুমিনুলদের ব্যর্থতায় জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা। তবে হতাশা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। অত্যন্ত শক্ত মনোবল, সাহসিকতার মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন
মিরপুর, ঢাকা
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া ক্যারিবীয়রা টেস্ট সিরিজেও পাত্তা পাবে না—এমনটি যারা ধরে নিয়েছিলাম, ইতিহাস গড়ে তাদের ভুল প্রমাণ করলেন উইন্ডিজ ক্রিকেটাররা। ফলে মুস্তাফিজের ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত, মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, অধিনায়ক মোমিনুল হকের দশম টেস্ট সেঞ্চুরি—সব অর্জন ম্লান! হালে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এক সময় ক্রিকেট দুনিয়াকে শাসন করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে খারিজ করার আওয়াজও তুলছিলেন, টেস্ট সিরিজ জিতে তাদের মুখেও কুলুপ এঁটে দিলেন তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অপ্রত্যাশিত হারের জন্য সমন্বয়হীনতা বহুলাংশে দায়ী ।
বিলকিছ আক্তার
কাউনিয়া, রংপুর
টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমান বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্স আশাব্যঞ্জক নয় । তবে সামনের সিরিজগুলোতে টাইগাররা ভালো করবে-এটিই প্রত্যাশা।
নজরুল ইসলাম খান
জুরাইন, ঢাকা
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে বেশ শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে, অনেক বড় বড় ক্রিকেটবোদ্ধা কিংবা ক্রিকেট দল বাংলাদেশকে সমীহ করে। বাংলাদেশের উচিত আরো বেশি টেস্ট সিরিজ খেলা, যাতে পরবর্তীকালে তারা আরো ভালো করে। আশা করি ভবিষ্যতে টাইগার বাহিনী টেস্টে ধারাবাহিক জয় ছিনিয়ে আনবে।
ফারজানা বিনতে মুরাদ
ঝিকরগাছা, যশোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও টিম ম্যানেজার। আশা করি ভুলগুলো শুধরে ভবিষ্যতে অবশ্যই জয়ের পতাকা ছিনিয়ে আনবে টাইগাররা।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
হতাশ হওয়ার কিছুই নেই, জয়-পরাজয় খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। টেস্টে অনেক কিছুই হতে পারে, তবে টাইগারদের মিরপুরের পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্য্যসহকারে- এমনটিই প্রত্যাশা সবার।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
২০২০ সালে সাকিববিহীন অবস্থায় ক্রিকেটের যে মন্দাভাব ছিল, এখন সাকিব যুক্ত হওয়ার পরেও সেই মন্দা কাটেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। মন্দাভাব কেন কাটছে না, তা চিহ্নিত করে এর সমাধান করতে হবে। টাইগাররা অতীতে অনেক ভালো পরফরম্যান্স করে দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে টাইগাররা ছন্দে ফিরবে।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মনিকগঞ্জ
টেস্ট ফরম্যাটকে বৈশ্বিক ক্রিকেটের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দীর্ঘ ২১ বছরে ক্রিকেটের এই আদি ধরন যুতসই পর্যায়ে রপ্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। টেস্টের কুলীন আঙিনায় হোমগ্রাউন্ড ও বাহির মুল্লুক মিলিয়ে সর্বমোট ১২১ ম্যাচে জয়-পরাজয় ও ড্রয়ের যে ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান, সেটি দেশের জন্য মোটেও আশাপ্রদ কিংবা সুখকর নয়। আইসিসি র্যাংকিং লিস্টের তলানিতে থাকা বাংলাদেশের তাই উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। টেস্টের মতো লং ফরম্যাটে বাংলাদেশের ব্যাটিং, বোলিংও ফিল্ডিং—এই তিন বিভাগেই ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যগত ধারাবাহিক দুর্বলতা লক্ষণীয়। বিশেষ করে প্রত্যাশিত মানের ফাস্ট বোলারের সংকট, টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ে অনভ্যস্ততা, প্রয়োজনের সময় অপ্রয়োজনীয় শট খেলে সাজঘরে ফেরা, টপ-অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দ্রুত উইকেট খোয়ানো প্রভৃতি পৌনঃপুনিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। দিন শেষে ক্রিকেট একটি দলীয় খেলা। তাই জয়ের লক্ষ্যে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ভিন্ন ভিন্ন দল মাঠে নামানোর যথার্থতা ভাবা যেতে পারে। সর্বোপরি বোর্ড, নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্ট ও কোচ—সবকে দেশের ক্রিকেটের ইমেজ রক্ষার্থে পরিকল্পিত ছকে ক্রিকেটবান্ধব সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ওয়ারেছ আলী খান
নরসিংদী
অনেক প্রত্যাশা নিয়ে নিজেদের চেনা মাঠে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হলেও সিরিজ শেষে অতিথিদের বিজয়ই দেখতে হয়েছে। অপ্রত্যাশিত বাজে পারফরম্যান্সের নেপথ্যে কাজ করেছে পাঁচ দিনের খেলা থেকে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের অনিবার্য কারণবশত দূরে থাকা। এছাড়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যর্থতায় সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগ একসঙ্গে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এএফএম সালাহউদ্দীন
সদর, বান্দরবান
যেখানে হেরে যাওয়ার কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেখানে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় মাত্র ৩৮ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। সিরিজ জয় হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের, বাংলাদেশ হলো হোয়াইটওয়াশ। সামনের সিরিজগুলোতে টাইগাররা ভালো করবে-এটিই প্রত্যাশা।
খন্দকার কামরুজ্জামান
মিরপুর, ঢাকা
চট্টগ্রামের ধাক্কা সামলে মিরপুর জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল টাইগাররা। মিরপুরের আগের ছয় টেস্টে জয়-পরাজয় ছিল অবিশ্বাস্য—এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে সামনের সিরিজগুলোতে টাইগাররা ভালো করবে-এটিই প্রত্যাশা।
রিফাত
উত্তরা, ঢাকা
টেস্টে ব্যাটিংয়ের মূলমন্ত্র ধৈর্য্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা। কিন্তু বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স এবার হতাশ করেছে। তবুও আমরা আশাবাদী, আমরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্যে থাকতে চাই।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা
খেলা থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা, মাঠের চরিত্র বুঝে দল সাজানোর ব্যর্থতা এবং সিংহ ভাগ খেলোয়াড়ের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে না পারার কারণেই সর্বশেষ টেস্ট সিরিজের ফলাফল বাংলাদেশের অনুকূলে আসেনি। অপেক্ষাকৃত কম শক্তিধর ক্যারিবিয়ান দলের কাছে দুটি টেস্টেই লজ্জাজনক হারের যথাযথ ময়নাতদন্ত করে দুর্বল দিকসমূহ চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে, প্রতিযোগিতামূলক খেলায় স্নায়ুযুদ্ধে সাফল্যের সঙ্গে টিকে থাকার কৌশল রপ্ত করতে খেলোয়াড়দের আরো মনোযোগ কাম্য।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম
চীনের নেতা মাও-সেতুং বলেছিলেন ‘বিফলতাই সফলতার জননী’। যে কোনো কাজেই জয়পরাজয় থাকবেই। টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমানে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্স আশাব্যঞ্জক নয়। তবে সামনে টাইগাররা ভালো করবে—এটিই প্রত্যাশা।
বজলুল করিম
ধানমন্ডি, ঢাকা
টেস্টে ব্যাটিংয়ের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধৈর্য ধারণ। দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের মিছিল বয়ে আনছে একের পর এক পরাজয়। আশা করছি সামনে অবশ্যই ভালো করবে টাইগাররা।
আনতারা আনিকা লাবণ্য
আজিমপুর, ঢাকা