জাতীয় শিল্পনীতিতে ‘এসএমই’ খাতের সংজ্ঞা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। আসন্ন শিল্পনীতিতে ‘মধ্যম’ ক্যাটাগরিকে কুটির, অতিক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র থেকে পৃথক করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ‘মধ্যম’কে বৃহত্ শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিসিসিআই মনে করে, এর ফলে কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও নীতিসহায়তা প্রাপ্তির বিষয়টি আরো সহজতর হবে। খসড়া জাতীয় শিল্পনীতি ২০২১-এ অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিবেচনার জন্য ২৫টি সুপারিশমালা পেশ করেছে ডিসিসিআই। চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান সম্প্রতি শিল্পসচিব কে এম আলী আজমের কাছে সুপারিশমালা হস্তান্তর করেন। সুপারিশে এসএমই খাতের ক্লাস্টারের উন্নয়ন, পণ্যের উত্পাদন বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল এসএমই ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠন ছাড়াও সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এসএমই উদ্যোক্তদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকল্পে চেম্বার ‘এসএমই ব্যাংক’ স্থাপনেরও প্রস্তাব করেছে।
রপ্তানির সম্ভাবনাময় দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)’ অথবা ‘অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)’ স্বাক্ষরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। চেম্বারের পক্ষ থেকে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে প্রায় ৩৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য চাহিদামাফিক মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি পুনঃ দক্ষ করে তুলতে হবে। দেশে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোতে ভারসাম্য আনা খুবই জরুরি। পণ্যের বহুমুখীকরণ ও গুণমানসম্মত পণ্য উত্পাদন নিশ্চিত করতে ঢাকা চেম্বার ‘টেকনোলজি অ্যাডাপশন ও ডিসিমিনেশন সেন্টার’ স্থাপনের সুপারিশ করছে। ই-কমার্স খাতের সার্বিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লজেস্টিক খাতের বিকাশে একটি সমন্বিত দিকনির্দেশনা প্রণয়নেরও প্রস্তাব করছে। ঢাকা চেম্বার মনে করে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এস্ইজেড) আমদানি বিকল্প এসএমই শিল্প স্থাপনের প্লট বরাদ্দে বিশেষ বিবেচনা এবং আর্থিক প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে একটি ‘ক্রাইসিস মিটিগেশন ফান্ড’ তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।