মধুখালীর গড়াই ও মধুমতি নদীতে মন্ত্রণালয়ের আইন অমান্য করে চলছে বালু উত্তোলন। এতে উপজেলার কামারখালীতে ৩০ বছর আগে নির্মিত গড়াই সেতুর স্থায়িত্ব ঝুঁকিতে পড়তে পারে। গড়াই সেতু দৌলতদিয়া-ফরিদপুর-গোয়ালচামট-মাগুরা-ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনা-মোংলা সড়কের ৬৬তম কিলোমিটারে অবস্থিত। গড়াই সেতুর এপারে ফরিদপুর জেলা এবং ওপারে মাগুরা জেলা। স্থানীয়রা জানান, নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার প্রায় ২০টি গ্রামসহ সালামাতপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের গ্রামের বাড়ি যাতায়াত সড়ক ও বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর একসময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া তাবাসসুম জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে বলা আছে, রেল মহাসড়ক আঞ্চলিক সড়কের এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু কাটা যাবে না। তিনি বলেন, কামারখালীর গড়াই সেতু এবং সালামাতপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ সড়ক ও স্মৃতি জাদুঘর এলাকার ২০টি গ্রাম নদীভাঙন থেকে রক্ষা করতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সরকারি বিধি মেনে গত ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে গড়াই নদীতে বালু তোলা ইজারা বন্ধ করেছে। কিন্তু মাগুরা জেলার বালু ইজারা দেওয়া হয়েছে। আর ইজারাদার এ সুযোগে সীমানা জটিলতা দেখিয়ে মধুখালী অংশে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করছেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহারিয়ার রুমি জানান, বর্তমানের গড়াই সেতুর অবস্থা মোটামুটি ভালো আছে। তবে সেতুর উভয় পাশে ৫০০ মিটারের মধ্যে বালু তোলা হলে যে কোনো সময় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।