ফাল্গুনের রক্তে দ্যাখো অই লকলক করে লতিয়ে উঠেছে
আমাদের মেঘবান নদীগুলো-কালের পাথরে দীর্ঘশ্বাসগুলো
জমতে জমতে সমুদ্রের হাত ধরে পাহাড়ে উঠেছে।
একটা নক্ষত্র চোখ সূর্যটাকে ছুটি দিয়ে নিজেই দখল করে
নীলিমামণ্ডল:আমি চোখ তুলে তার দিকে তাকাতেই
সে আমাকে জিগ্যেস করে,
‘আচ্ছা বলতো, তোমাদের বর্ণমালা
এত লাল কেন? কেন তারা রক্তেই ছুঁয়েছে আজ
আসমানের সিঁড়ি, অই গিরি, বন-উপবন।
আমি বলি, ভাই-ভগ্নি অগ্নি-জল এক হয়ে খেলা করে আমার ভাষায়—
দ্যাখো, রক্তচিহ্ন বুকে জ্বেলে মৌনতার সিংহাসনে বসে আছে
আমাদের গৌরবের শহিদ মিনার।
শব্দের অরণ্যে অন্ধকারে একদিন যারা জ্বালে বিজয়ের মাটির চেরাগ
ওরা তো মায়ের ডাকে জেগে আছে সারাক্ষণ মৃত্যুর নেশায়।
ভাবো তো একবার দৃশ্যটা কেমন হয়: মানুষের কোনো ভাষা নেই;
আকাশ গিয়েছে উড়ে শূন্যতার খাঁচা ভেঙে; পাখির জীবন থেকে
ছুটি নিয়ে পালিয়েছে বাতাসের মেয়ে;
নদীগুলো জল নিয়ে চলে গেছে
মেঘের গুহায়। ভাবো তো একবার, নৈঃশব্দ্যের নদী পার হয়ে
কী করে প্রেমিক তার হাওরের মুক্তপাখি প্রেমিকার দেখা পায়
কবিতার শ্যামলতলায়—
কে তাকে আগুন প্রেমে ডেকে নেয় বসন্তের সবুজ ডানায়?
অরণ্যের অন্ধকারে হূদয়ের পাতা ঝরে, পাতা...
দ্যাখো দ্যাখো তার সঙ্গে রক্ত ঝরছে; ... রক্ত কেন ঝরে?
আমার ভাইয়ের রক্ত!
যদি রক্তে যুক্ত হয় বারুদের ঘ্রাণ, যদি রক্তপাতা ঝরে!
পাতা ঝরে গেলে এ মৃত্তিকার অন্তঃপুরে নক্ষত্রের মতো শব্দহীন
যে ভাষায় কাঁদে অই রক্তনদী সে ভাষার ধ্বনি
এক অন্ধ কবি ছাড়া কে আর অমন করে বাতাসের প্রাণে
সমুদ্রের কান পেতে শোনে?