সিস্টেম লসে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

চট্টগ্রাম ওয়াসায় সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি বন্ধ হচ্ছে না। এতে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব হারাচ্ছে ওয়াসা। পানি চুরি বন্ধে কর্তৃপক্ষ নানামুখী পদক্ষেপের দাবি করলেও তা কমছে না।

ওয়াসার এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার গ্রাহকের মিটারবিহীন গড় বিল আদায় হতো। সম্প্রতি এসব গ্রাহককে মিটার প্রদান করায় সিস্টেম লস কিছুটা কম হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহ লাইনে লিকেজ ও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পানি চুরির কারণে সিস্টেম লস কমছে না। অবৈধ সংযোগ প্রক্রিয়ায় ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া নগরীতে ব্যক্তি পর্যায়ে নলকূপগুলো লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে রাজস্ব আয় অনেক বৃদ্ধি পেত।

চট্টগ্রাম ওয়াসায় নতুন পানি শোধনাগার চালুর কারণে পানি সরবরাহ অনেক বেড়েছে। ওয়াসার হিসাবে নগরীতে দৈনিক ৪২ কোটি লিটার পানির চাহিদা নির্ধারণ করা হলেও চাহিদা আরও বেশি। তবে চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে দৈনিক ৩৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এখনো নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি পাচ্ছে। বিশেষ করে উঁচু এলাকায় পানি সংকট বিরাজ করছে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, কর্ণফুলী পানি শোধনাগার (দ্বিতীয় পর্যায়) নামে নতুন আরেক প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন ট্রায়াল চলছে। এটি থেকে নগরীতে দৈনিক আরও ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পানির সিস্টেম লস ২২/২৩ শতাংশে নেমেছে। আগে ৩০ শতাংশের ওপরে ছিল। তবে বর্তমানে সিস্টেম লস ২৭/২৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলে রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়। পানি সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি চুরিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নগরীতে প্রায় ৭২ হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে নতুন করে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। মিটার রিডাররা গ্রাহক পর্যায়ে রিডিং সংগ্রহ করে বিল তৈরি করে থাকেন। মিটার রিডারের স্থায়ী ৬০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪৩ জন। অথচ রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য মিটার রিডার পদে জনবল বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগ রয়েছে স্বল্প জনবল দিয়ে সকল গ্রাহকের মিটার থেকে রিডিং সংগ্রহ করে বিল তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনুমান নির্ভর বিল নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগের স্তূপ পড়েছে। প্রতিদিন অনেক গ্রাহক ভুয়া বিল নিয়ে ওয়াসায় ভিড় করছে। আবার ওয়াসার রাজস্ব শাখার জনবলের যোগসাজশে রিডিং কমানোর জন্য মিটার টেম্পারিং করার অভিযোগও রয়েছে।

জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, সিস্টেম লসের কারণ চিহ্নিতকরণ ও বকেয়া আদায়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি কাজ করছে। ইতিমধ্যে কিছু করণীয় ঠিক করা হয়েছে। খেলাপি গ্রাহকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। সাড়া না মিললে মামলা দায়ের করা হবে। সিস্টেম লস কমে এখন প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।’

ওয়াসায় বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১৪ কোটি টাকা পানির বিলিং হয়ে থাকে। পানির বিল অর্থই ওয়াসার আয়ের প্রধান উৎস। নগরীতে ব্যক্তি পর্যায়ে নলকূপ বসাতে গেলে ওয়াসা থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। নগরীতে পানি সংকটের কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে লাইসেন্সবিহীন হাজারো নলকূপ রয়েছে। ওয়াসার লাইসেন্স প্রাপ্ত নলকূপ রয়েছে সাড়ে ৪ হাজার। ফলে নলকূপগুলোকে লাইসেন্সের আওয়তায় আনা গেলে রাজস্ব আয় অনেক বাড়ানো সম্ভব হতো। তবে এই ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। ব্যাপক হারে নলকূপের কারণে নগরীতে পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, এখনো পুরনো পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে পানি লিকেজ ও অবৈধ সংযোগের কারণে সিস্টেম লস হচ্ছে। সিস্টেম লস প্রতি মাসে উঠানামা করছে। নতুন পাইপ লাইন হয়ে গেলে সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। মিটার রিডারের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

ইত্তেফাক/এমআর