‘লিডার’ ও ‘একশত’ শব্দের সুবাতাসে চলচ্চিত্র শিল্প

তানভীর তারেক

চলচ্চিত্রের অঙ্কটা বড় জটিল! সেটি ক্ষুদ্র ইন্ডাস্ট্রি হোক বা সবচেয়ে বৃহত্। রেসের দৌড়ের কোনো ফারাক নেই। হিসেব, লড়াই ঐ একইরকম। ২০১৯ তারকাদের বেকার বসে থাকার বছরে হতাশ যখন গোটা চলচ্চিত্র মহল তখন সেই করোনাকাল কাটিয়ে ওঠার পর থেকে নানা ঘোষণা আর দারুণ দারুণ কাজের শুরু দেখে বলাই যায়, চলচ্চিত্রের সুখী চাকাগুলো হয়তো ঘোরা শুরু করবে। এর ভেতরে ২০২১ সালটি হয়তো বাঁধাই করে রাখবেন চলচ্চিত্র তারকা আরেফিন শুভ। দেশের সর্ববৃহত্ বাজেটের চলচ্চিত্র এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের স্বপ্ন-সাধ এদেশের প্রত্যেক অভিনেতা এক/দু-বার করে দেখেছেন। কেউ কেউ একাধিক টকশোতে নিজেদের ইচ্ছের কথাও জানিয়েছেন আগাম। আকাঙ্ক্ষার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তাই হয়েছে অনেক অভিনেতার ভেতরে। অতঃপর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ধরা দিলো আরেফিন শুভর কপালেই। অনেকেই তাই বলেন, এই ছবিটির পর শুভর বাকি জীবনে আর কিছু না করলেও অর্জনের ডালি পরিপূর্ণ থাকবে।

এদিকে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে যে যার মতো যেন নড়েচড়ে বসেছেন। দেশে দীর্ঘদিন ধরেই এই মন্দাভাব কাটানোর ক্ষেত্রে পুরনো নিয়মিত প্রযোজকরা সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও নতুন প্রযোজকদেরই আগ্রহ ও উদ্যোগ বেশি দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সম্প্রতি আরটিভির প্রযোজনায় শাকিব-বুবলীকে নিয়ে ‘লিডার:আমিই বাংলাদেশ’ নামের একটি ছবির ঘোষণা অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে দীর্ঘ আলোচনা আর গুঞ্জনের পর বুবলী-শাকিবকে একসঙ্গে দেখা গেল। যদিও একজনের মুখে অন্যজনের নাম শোনা যায়নি। হয়নি চোখ চাওয়া-চাওয়ি বা হাসির বিনিময়, যা অন্যসময় খুব স্বাভাবিক ছিল।

তবে শাকিব খান নিজের বক্তব্যে নতুন প্রযোজকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন ছবির মতো ছবি একটি করলেই যথেষ্ট। এখনকার একাধিক ছবির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ‘স্টুপিড’ উচ্চারণ করেন। এই ‘স্টুপিড’ শব্দটি ঠিক কাকে বললেন তা ঠাওর করতে গণমাধ্যমকর্মীর খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।

এর ঠিক ক’দিন আগেই দেশের সবচেয়ে সক্রিয় প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে উদ্যোগ নিলো শাপলা মিডিয়া। তারা একটি দুটি নয়, বরং ১০০টি ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এত বড়সংখ্যক ছবি নির্মাণের ঘোষণা এটিই প্রথম। তাই চমক উচ্ছ্বাস ও আশাবাদের গল্প লিখতে শুরু করেন নিজেদের ফেসবুকে সিনেমার তারকারা। কেউ কেউ সমালোচনাও করেন নানা যুক্তির ফুলঝুড়ি দিয়ে।

তবে এই মন্দাক্রান্ত সময়ে এমন ঘোষণাও তো ইতিবাচক একটা দিক হতে পারে ইন্ডাস্ট্রির জন্য। স্বপ্ন দেখাতে পারে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া অগণিত কর্মীকে। যেখানে করোনাকালে অগণিত টেকনিশিয়ান কাজের অভাবে ঢাকা ছেড়েছেন।

শুধু এই দুই প্রযোজকই নয়, বাংলাদেশের এক সময়ের ডাকসাইটে প্রযোজক ও অভিনেতা ডিপজল ঘোষণা দিয়েছেন বছরে অন্তত ৬টি ছবি নির্মাণ করবেন তিনি। তবে ডিপজল গত ২ বছর ধরে নানা ঘোষণাতেই আলোচনায় থাকছেন। এখন কার্যকারীতা না দেখলে সত্যিই হতাশ হবেন তার ভক্তরা।

আরেক প্রযোজক হলেন অনন্ত জলিল। যিনি নিজের এক ছবিকেই দেশের ১০০টি ছবির বাজেটের সমান বলে ঘোষণা দিলেন। নিজের ছবির ক্ষেত্রে এ ধরনের আলোচনা ছবি প্রযোজকদের জন্য সম্মান না অসম্মানের তা বোঝা গেল না। কারণ অনন্তর এই বক্তব্যের পর প্রযোজক সমিতি বা পরিচালক সমিতির কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা প্রশংসা কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে অনন্তের এই একশ’ শব্দ মিশ্রিত বক্তব্যে এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেল যে, আরো একটি বিড় বাজেটের ছবি আসছে। ছবির নাম ‘নেত্রী দ্য লিডার’। একইসঙ্গে লিডার ও একশ’ শব্দ দুটির হঠাত্ চাহিদা বাড়ার কারণ বোঝা মুশকিল। প্রযোজকরা একশ’র নিচে যেন কথাই বলছেন না! শাকিবের মতো সুপারস্টাররা মালয়লাম ছবির মতো একশ’/দুইশ’ কোটি বাজেটের ছবি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি গড়ার উদাহরণ টানছেন। অন্যদিকে ছবির নামকরণে ‘লিডার’ দারুণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

২০২১ সালের শুরুতে এমন দাপুটে ঘোষণাগুচ্ছ চলচ্চিত্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুখবর হয়ে উঠুক সেই প্রত্যাশা এখন সকলের।