জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে বাঁকা গ্রামের ১২ হাজার মানুষ

কপোতাক্ষ নদ খননের দাবি

এনামুল হক, খুলনা অফিস

‘কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমাদের ডুবে মরতি হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে আমরা সাত-আট মাস বাড়িতে থাকতি পারি নে। বাকি তিন-চার মাস থাকে পোকামাকড়ের উপদ্রব।’ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব গৃহবধূ জুলেখা বেগম এভাবেই তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি ইউনিয়নের একটি গ্রাম বাঁকা। পাইকগাছা আর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাকে বিভক্ত করেছে কপোতাক্ষ নদ। বাঁকা গ্রামে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। এই গ্রামের পাশের বিলটির নাম ‘বাঁকার চর’। এই বিলে বছরে দুবার ধান পেয়ে গ্রামবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই বসবাস করতেন। তবে সমস্যা শুরু হয় ২০০৬ সাল থেকে। বিলের পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ‘বাঁকার চর’ বিলটির প্রায় ২ হাজার বিঘা জমিও বর্ষার পানিতে ডুবে থাকে।

বাঁকা গ্রামের কৃষক জবেদ আলী বলেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতার কারণে আমরা জমি চাষ করতে পারিনে। একবিঘা জলাবদ্ধ জমি সেচ দিয়ে চাষ করতে ৬ হাজার টাকার বেশি লোকসান হয়। সত্তরোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী মোড়ল আক্ষেপ করে বলেন, ‘কপোতাক্ষ নদের পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকার কারণে বছরের সাত-আট মাস ধরে জলাবদ্ধ অবস্থা থাকে।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ গাজী বলেন, পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের শালিখা গ্রাম থেকে পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি ইউনিয়নের বাঁকা হয়ে কাটাখালী পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের প্রায় ১৫ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। এতে বাঁকা গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষকে বছরের বেশির ভাগ সময় ধরে জলাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। রাড়ুলি ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ গোলদার বলেন, কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বাঁকা গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধ থাকে। অনেকের বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বাঁকা গ্রামের বিলে কোনো ফসলও হয় না।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার শালিখা গ্রাম থেকে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার মধ্য দিয়ে কয়রা উপজেলার আমাদী পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের ৩০ কিলোমিটার এলাকা খনন করা হবে। এজন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। তবে এখনো দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়নি। দরপত্র আহ্বান করার পর আগামী বছরের শুরুতেই কপোতাক্ষ নদের খনন কাজ শুরু হবে। তখন আর জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে কপোতাক্ষ নদ খননের ব্যাপারে ভালো কোনো সংবাদ পাব।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু ইত্তেফাককে বলেন, কপোতাক্ষ নদ খননের ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছি। ইতিমধ্যে নদের কিছু কিছু জায়গা খননের ব্যাপারে টেন্ডারও হয়েছে। কপোতাক্ষ নদের ভরাট অংশ খনন হয়ে গেলে আর জলাবদ্ধ সমস্যা থাকবে না।