ঝরাপাতায় সংসার চলে ওদের!

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

একরের পর একর রাবার গাছ দাঁড়িয়ে আছে পাতাহীন। যত দূর চোখ যায় তত দূর শুকনা পাতার বন মনে হয়। ফুলবাড়ীয়ার সন্তোষপুর রাবার বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, গাছের নিচে ঝরাপাতা কুড়াচ্ছেন শতাধিক নারী পুরুষ। তাদের পাতা কুড়ানোর এই কর্মযজ্ঞ চলবে দুই মাস। প্রতিদিন তাদের মজুরি ২০০ টাকা। এ আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের (বশিউক) রয়েছে এক হাজার জমিতে রাবার গাছ। মাঘ মাস অর্ধেক হলেই পাতা ঝরা শুরু হয় এই বাগানে। ফাল্গুন আসার আগেই রাবার গাছ পাতাবিহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। রাবার কষ সংগ্রহকারী ট্রেপারম্যানরা ঝরাপাতা প্লট আকারে বিক্রি করে বাড়তি টাকা পান। প্রতি প্লট পাতা বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। এ ঝরাপাতাগুলো কিনে নেয় স্থানীয় পাতা ব্যবসায়ীরা। পাতা ব্যবসায়ীরা ঝরাপাতাগুলো পাহাড়ি নারী শ্রমিকদের দিয়ে জড়ো করে বিক্রি করে কচু ও হলুদ চাষিদের কাছে। পাতাগুলো কচু ও হলুদ খেতের ঢাক (ঢাকনা) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সরেজমিনে রাবার বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি মহিষের গাড়িতে ঝরাপাতা ভর্তি করা হচ্ছে। শতাধিক নারী পুরুষ পাতাগুলো কুড়িয়ে জড়ো করছেন। আছিয়া ও খুকি নামের নারী বলেন, ‘আমরা গরিব। এ সময় পাহাড়ে কাজ কমতে থাকে। তাই আমরা ২০০ টাকা মজুরিতে কাজ করি।’ ট্রেপারম্যান নার্গিস বলেন, ‘আমরা কষ আহরণ করে যে টাকা বেতন পাই তাতে আমাদের চলে না। বছর শেষে পাতা বিক্রি করে আমরা কয়েকটি টাকার মুখ দেখি। পাতাগুলো আমরাই দেখে রাখি।’ হারুন অর রশিদ নামের এক পাতা ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি ট্রেপারম্যানদের কাছ থেকে প্লট আকারে পাতা কিনে শ্রমিক দিয়ে তা জড়ো করে কচু ও হলুদ চাষিদের কাছে বিক্রি করে থাকি।’ রাবার বাগান ম্যানেজার মফিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘ট্রেপারম্যানরা গরিব। সারা বছর ওরা বাগানে কাজ করে। পাতাগুলো ওরাই দেখে রাখে। বিক্রি করে ওরা বাড়তি কটা টাকা পায়।’