স্পোর্টস রিপোর্টার
ছুটির দিনের নিস্তরঙ্গ সকালটা এক লহমায় যেন তেতে উঠল। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট না খেলে আইপিএল খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাকিব আল হাসান—খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই ঝড় উঠে ক্রিকেটাঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্রই আলোচনা। পক্ষে-বিপক্ষে মত আসছে স্রোতের ধারায়। এ সিদ্ধান্তে আহত বোধ করা সমর্থকদের সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন তিনি। আবার কেউ কেউ চলতি বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ঢাল হিসেবে ধরে সাকিবের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
তবে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারছেন না। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এটা কোনো মতেই সমর্থন করা যায় না। অবশ্যই অনুমতি দেওয়া যায় না। শ্রীলঙ্কা এখন টেস্টে উন্নতি করছে। কঠিন সিরিজ হবে। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের অনেকে টেস্ট খেলতে চায় না। ’
তবে কাউকে জোর করে টেস্ট খেলানো হবে না, সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিবি। গত বুধবার বোর্ড সভাপতির বাসায় অনেক আলোচনার পর শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট বাদ দিয়ে আইপিএল খেলতে সাকিবের ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেছে বিসিবি। চাইলে ছুটি দেওয়া হবে মুস্তাফিজকেও। গতকাল এমনটাই বলেছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান। অতীতে বিসিবি কখনোই দেশের আন্তর্জাতিক সিরিজের সময় ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজ লিগে খেলার অনুমতি দেয়নি। সব কিছুর আগে ছিল দেশের খেলা, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ। সাকিবকে ছুটি দেওয়ার মাধ্যমে ভিন্নতা আসলো বিসিবির নীতিতে। এটি যে খুব ভালো উদাহরণ হয়নি, সেটি স্বীকার করেছেন আকরাম খানও। বিসিবির এ পরিচালক বলেছেন, ‘অবশ্যই খুব ভালো উদাহরণ নয় এটি। কিন্তু যেটা বললাম, অনিচ্ছুক কাউকে আমরা খেলাতে চাই না।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্টেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বেশি নাজুক। সম্প্রতি হোম সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। এপ্রিলে লঙ্কা সফরে রয়েছে দুটি টেস্ট, যা মুমিনুল বাহিনীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএল চলবে এপ্রিল থেকে জুনের শুরু অবধি। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুই টেস্ট না খেলে পুরো সময়টা নিজের দল কেকেআরকে দিতে চান সাকিব।
এখন অনেকটা অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে যে, আইপিএল চলাকালীন থমকে থাকে ক্রিকেট বিশ্ব। সবচেয়ে ক্ষমতাধর বোর্ডের বড় আয়োজনের সময় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থাকে না বললেই চলে। চলতি বছর, যেমন এপ্রিল-মে মাসে বেশির ভাগ দলেরই খেলা নেই। এপ্রিলে পাকিস্তান সফরে আসবে জিম্বাবুয়ে। দুই দলের কোনো ক্রিকেটার নেই আইপিএলে। বাংলাদেশ যাবে শ্রীলঙ্কায়। দ্বীপ দেশটির কোনো ক্রিকেটার এবার অর্থের ঝনঝনানিতে ঝঙ্কার তোলা এ টুর্নামেন্টে সুযোগ পাননি।
আইপিএলকে প্রাধান্য দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও। কেন উইলিয়ামসনরা চাইলে দেশের খেলা বাদ দিয়ে আইপিএলে ব্যস্ত থাকতে পারবেন। আইপিএলের সময়সূচি এবং কোয়ারেন্টাইন নিয়মের অপেক্ষায় আছে কিউইরা। প্রয়োজনে দেশটির শীর্ষ ক্রিকেটাররা মিস করবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজ এবং জুনে ইংল্যান্ড সফরের প্রথম টেস্ট। একই পরিণতির দিকে হাঁটতে পারে ইংল্যান্ডও। দল প্লে-অফে উঠলে দুই দেশের ক্রিকেটাররাই প্রথম টেস্ট খেলতে পারবেন না। দেশের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজ লিগ—ক্রিকেট দুনিয়াকে এমন নজির প্রথম দেখিয়েছিল ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। এবার সাকিবের মাধ্যমে বাংলাদেশও সেই গন্ডিতে প্রবেশ করল।