মধ্যরাতে মা, বোন ও ভাইকে কুপিয়ে হত্যা!

সিলেট অফিস

সিলেট শহরতলীর বিআইডিসি এলাকার মীর মহল্লায় সত্-মা ও ভাইবোনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আবাদ হোসেন নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ‘হত্যাকারী’ আবাদ হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

নিহতরা হলেন : মীর মহল্লার ব্যবসায়ী আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিয়া বেগম (৩০), তার মেয়ে মাহা (৯) ও  ছেলে তাহসান (৭)।  শুক্রবার  সকালে পিবিআইর একটি দল সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে লাশগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আবাদ হোসেন তার সত্-মা ও ভাইবোনকে কোপাতে থাকে। পরে স্থানীয়রা আবাদকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুবিয়া বেগম, মাহা ও তাহসানকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মা ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু তাহসান।

শাহপরান থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, নিহতদের মুখ, বুক ও হাতসহ বিভিন্নস্থানে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আসলেই কী কারণে এই নির্মম ঘটনা ঘটেছে তা অনুসন্ধান করছে পুলিশ।

লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আবাদ

শাহপরান থানা সূত্র জানায়, সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা আবজাল হোসেনের (৪২) নগরীর অদূরে শাহপরান এলাকায় মুদি দোকান রয়েছে। ব্যবসার স্বার্থে তিনি বিআইডিসি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার প্রথম স্ত্রী দুই ছেলেমেয়েসহ বিয়ানীবাজারে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বিআইডিসি এলাকার বাসায় থাকেন আবজাল। মাস ছয়েক আগে নিজের প্রথম স্ত্রীর পক্ষের বড় ছেলে আবাদ হোসেনকে শহরের বাসায় নিয়ে আসেন আবজাল। আবাদ সত্ মায়ের সঙ্গে থাকার পাশাপাশি বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন।

আবাদের বরাত দিয়ে শাহপরান থানার ওসি জানান, বিয়ানীবাজার থেকে বিআইডিসির বাসায় আসার পর থেকে সত্-মায়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া বেধে যেত তার। আবাদ পুলিশকে জানায়, সত্-মা তাকে নির্যাতন করতেন। এই ক্ষোভ থেকে সে ছুড়ি দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করেছে। তবে আবাদের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে ওসি জানান।

এলাকাবাসী জানায়, ঐ রাতে সত্-মা, বোন ও ভাইকে কুপিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় আবাদ। খাটের তোশকে আগুন ধরিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় সে। লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য আবাদ এমনটি করতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। পরে আগুন দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে আবাদকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বিছানা থেকে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে আবজাল হোসেনের অবস্থা পাগলপ্রায়। তিনি কেবল বিলাপ করছেন। নিজের ছেলের এমন কাণ্ডে তিনি বিস্মিত। শাহপরান থানার ওসি জানান, শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।