মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ নারীর মৃত্যু

মিয়ানামারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম একজন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। প্রায় ১০ দিন আগে বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন ঐ নারী বিক্ষোভকারী। তার নাম মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইন (২০)। এদিকে অভ্যুত্থানের অবসান ঘটিয়ে মিয়ানমারকে গণতন্ত্রে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ‘কোয়াড’ নামে পরিচিত ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জোট। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি       রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, রাবার বুলেট এবং গুলি করে। সে সময় মিয়া থোয়ে আহত হন। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তার মাথার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর ছিল। ঐ তরুণীর ভাই বিবিসিকে বলেন, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এবং বলার কিছু নেই।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ দমনে আরো কঠোর হয়েছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিতকিনায় কমপক্ষে ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ ও সেনারা। তবে প্রতিদিনই বিক্ষোভ বাড়ছে। দেশের সব প্রান্তে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মানদালয়তে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ সদস্যদের যোগ দিতে দেখা গেছে। ইতিমধ্যে ঐ শহরের একশর বেশি কর্মকর্তা অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

গণতন্ত্রে ফেরার আহ্বান :মিয়ানমারকে অবিলম্বে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ আহ্বান জানান। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতশু মোতেগি জানান, বৈঠকে মিয়ানমার, করোনা মহামারি, জলবায়ু এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ চলাচল অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারে দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। অন্যদিকে মিয়ানমারের কয়েক জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য ও কানাডা।