তালায় দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৬৯ বছর পার হতে চললেও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ৩২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুইশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি-এই গানটি শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে গাইতে পারে না উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তালা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। আর উপজেলার শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে নির্মিত হয়েছে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তমঞ্চ। তাই উপজেলা সদরে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে তার শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৫টি মাদ্রাসা, ১৩টি মহাবিদ্যালয় ও ২১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে নন এমপিও ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ২৮টি মাদ্রাসা ও ১৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার নেই।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক এম ময়নুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ নামক ভুখন্ডের সকল আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার শহীদ মিনার। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৬৯ বছর আর দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর পার হতে গেছে কিন্তু তালা উপজেলাসহ দেশের শতভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি।

বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরধাকারী। তার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে পৌছে যাচ্ছে। তিনি যদি প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করার উদ্যোগ নেন তাহলে মৃত্যুর আগে হয়তো আমরা শহীদ মিনারগুলো দেখে যেতে পারবো।

তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমান জানান, জায়গা সংকটের কারণে কিছু কিছু স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আমরাও চাই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক। যাতে স্কুল পর্যায় থেকেই সকল শিক্ষার্থীরা মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই আমরা সে সকল প্রতিষ্ঠানের তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তবে শহীদ মিনার না থাকলেও সকল প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা দিবস পালিত হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এমআর