শ্যামসুন্দর সিকদার
তুমি এলেই তখন সারারাত জেগে থাকে রাজপথ
প্রতিটি ভোরের পদচারণায় স্মৃতির মিনার জেগে ওঠে রক্তের ভেতর
নড়েচড়ে ওঠে সবুজ বৃক্ষের পাতা, আর
পথের ধুলায় পড়ে থাকা গেলো বছরের যত ক্লান্তি!
তারপর জেগে ওঠে আনন্দের ঘাম এবং
শীতের রাত্রিতে খড়ের ওমের ভেতর আরামে শুয়ে থাকা দরিদ্রের ঘুম
জেগে ওঠে বাঙালি মায়ের দামাল ছেলেরা রক্তিম ভালোবাসায়!
তুমি এলেই তখন অন্তরে টগবগিয়ে ওঠে একুশের অহংকার,
থাকে সরবে চঞ্চল-মুখরিত হয় রমনার মাঠ
এবং একাডেমি চত্বরের সবুজ ঘাসেরা ছুটি নিয়ে যায় অমরত্বে
আর বাংলা বর্ণমালাকে বসতে দেয় সূর্যছায়া,
মুক্ত বাতাস, ঝর্ণার শব্দ, পাখিদের গান
আর মানুষের সম্মিলনে স্মরণের বটতলায় বিদ্রোহ জেগে ওঠে
সমারোহ বক্তৃতা-কথামালায়!
তুমি এলেই এখানে কাগজের পাতা ভরে ওঠে কবিতায়
চোখের জলের সাথে শিশিরের জল মিশে যায় নদীমুখে
সময়ের চাকায় যে ‘অমরত্ব’ ফিরে আসে বারবার-মৃত্যুহীন মহিমায়
ফিরে আসে তা এখন বাংলা হতে বিশ্বময়-একান্ত আন্তর্জাতিকতায়!
তুমি এলেই ঘুমের কাব্যে শুয়ে থাকে যেন রফিক সফিক জব্বার
এবং অসংখ্য শহিদের নাম,
ফেব্রুয়ারি!
তুমি এলেই এখন সারাবিশ্ব অপেক্ষায় থাকে একুশের জন্য!