রফিকুল ইসলাম
দেশের প্রথম সারির গার্মেন্টস মন্ডল গ্রুপ। গত তিন দশক ধরে দেশের গার্মেন্টস সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। মন্ডল গ্রুপেরই অঙ্গসংস্থান কটন কটন ক্লাব (বিডি) লি. গার্মেন্টস শিল্পে প্রবেশ করে শুরু থেকেই উন্নত মানের রপ্তানি পোশাক তৈরি করে দেশে ও বিদেশে নিজেদের অবস্থান করেছে সুদৃঢ়। দেশ বিদেশের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে উত্পাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক সময়ে ডেলিভারি দেয়া এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সময়ের দাবি।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ায় গত তিন বছরে তাদের উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ শতাংশ। যার মূলে রয়েছে গার্মেন্টসের প্রোডাকশনে আইটি অবকাঠামোতে উন্নত প্রযুক্তির সফটওয়্যার ‘প্রোট্র্যাকার’-এর সংযোজন।
শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান কটন ক্লাব (বিডি) লি. ২০০৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন কার্যক্রম শুরু করার পর বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আসছে। প্রায় ৩১০০ কর্মী ও বছরে আনুমানিক ১৯ মিলিয়ন ইউনিট পোশাক তৈরির সক্ষমতা নিয়ে বাজারে তাদের বিচরণ।
নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে আরও উত্পাদনশীল করার লক্ষ্যে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রোডাকশন ইউনিট পরিচালনার উদ্যোগ নেয় তারা। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রোডাকশন ইউনিটে ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ‘প্রোট্র্যাকার’ স্থাপন করে।
প্রোট্র্যাকার স্থাপনের পর প্রতিষ্ঠানটি খুব দ্রুতই এর সুবিধা পেতে শুরু করে। আগে যেখানে তাদের উত্পাদন দক্ষতা ছিল ৫৫ শতাংশ প্রোট্র্যাকার ব্যবহারের পর তা ১০ শতাংশ বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৬৫ শতাংশে। পাশাপাশি উত্পাদন দক্ষতা পর্যালোচনা করে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত কর্মী সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৬০ জন কর্মী কম নিয়েও আগের চাইতে বেশি উত্পাদন সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র প্রোট্র্যাকার হতে প্রাপ্ত রিপোর্ট এনালাইসিস করে।
প্রতিষ্ঠানটির আই ই প্ল্যানিং ও প্রোডাকশন ডিজিএম আবু সালেহ মো. মূসা বলেন, ‘প্রোডাকশন একটি গার্মেন্টসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেখানে স্বচ্ছতা থাকাটা দরকার। পাশাপাশি নির্ভুল রিপোর্ট এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা পূরণের লক্ষ্যে সময় নির্ধারণ করাটাও জরুরি। এর সবকিছুরই রিপোর্ট আমরা পাচ্ছি প্রোট্র্যাকার-এর মাধ্যমে। প্রোট্র্যাকার-এর কারণে আমরা এখন যেকোন জায়গা থেকেই মনিটর করতে পারছি। এর ফলে আমরা যেকোন মুহূর্তেই যেকোন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি পাশাপাশি জানতে পারছি কোথায় কি হচ্ছে। এতসব সুবিধা একটি মাত্র প্ল্যাটফর্মে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’
প্রোট্র্যাকার-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কাইলার্ক সফট লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম শরীফ জানান, ‘প্রোট্র্যাকার সফটওয়্যারটি আরএমজি সেক্টরের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করেছি। বর্তমানে গার্মেন্টসগুলো অটোমেশন-এর দিকে নজর দিচ্ছে। তারা চেষ্টা করছে কিভাবে প্রয়োজনীয় জনবল ব্যবহার করে কম খরচে বেশি উত্পাদন করা যায়। প্রোট্র্যাকার হচ্ছে ঠিক সেধরনেরই একটা সফটওয়্যার যার তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে আপনি অতিরিক্ত জনবল ঝেড়ে ফেলে সঠিক উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রোট্র্যাকার-এর মাধ্যমে গার্মেন্টস-এর প্রোডাকশনের এ-টু-জেড মনিটর করা যায় খুব সহজে যেকোন জায়গা থেকে। যার ফলে নীতিনির্ধারকরা খুব সহজেই চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রোডাকশনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে পারেন।’