স্মৃতিকথায় এটিএম শামসুজ্জামান

এটিএম শামসুজ্জামান এদেশের অগণিত অভিনেতার আদর্শ শিল্পী। আমাদের গণমাধ্যমের খামখেয়ালিতে নায়ক রাজ্জাকের মতো তার মৃত্যুর খবরও একাধিকবার প্রচার ও প্রকাশ করেছে কেউ কেউ। বরেণ্য এই শিল্পীর মহাপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ তার অগণিত কাছের মানুষ, শিষ্য, অনুসারী, ভক্তসহ জনপ্রিয় সব তারকারা। তাদের ভেতরে ক’জনের মতামত নিয়ে এই স্মৃতিশ্রদ্ধা...

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঝরে গেল আরো একটি নক্ষত্র। সকলের প্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। অত্যন্ত মেধাবী, প্রাণবন্ত, বিনয়ী, সহজ-সরল, সাদামাটা মানুষ ছিলেন এটিএম ভাই। ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অনেক শিল্পীরই বিকল্প তৈরি হয় কিংবা করা যায়, কিন্তু এটিএম শামসুজ্জামানের কখনোই কোনো বিকল্প ছিল না, আর তৈরি হবে কি-না জানি না। এই মহান শিল্পীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার মাগফেরাত কামনা করছি।

 

অভিনেত্রী আনোয়ারা

উনি সাধারণত ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। খারাপ মানুষের চরিত্রে। বাস্তবে অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। তা বলে শেষ করা যাবে না। ওনার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

 

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

শেষ পর্যন্ত সত্যটা হলো। এটিএম ভাই চলে গেলেন। আর হলো না দেখা। কত সময়, কত স্মৃতি আমাদের। আবেগতাড়িত হচ্ছি খুব। অপার শ্রদ্ধা। শান্তিতে থাকুন আপন মানুষ।

 

চিত্রনায়ক শাকিব খান

বাংলা চলচ্চিত্রের যারা পথপ্রদর্শক, একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন। সেই কাতারে এবার যুক্ত হলেন কিংবদন্তী এটিএম শামসুজ্জামান আঙ্কেল। সবসময় সুপরামর্শ পেয়েছি এই মানুষটির কাছ থেকে। সবকিছু ছাপিয়ে এটিএম আঙ্কেল ছিলেন অত্যন্ত রসবোধসম্পন্ন একজন মেধাবী মানুষ। এমন বহুমাত্রিক মেধাবী মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আপনাকে হারিয়ে প্রচণ্ড শোক অনুভব করছি। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন এটিএম শামসুজ্জামান আঙ্কেল।

সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম

শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, তিনি রাজনৈতিকভাবেও সচেতন মানুষ ছিলেন। যখন রাজপথে অগ্নিসংযোগের রাজনীতি হচ্ছিল তখন তিনি টানা ৯৩ দিন রাজপথে ছিলেন। তাই তার মতো একজন পরিপূর্ণ মানুষ পাওয়া সত্যিই কঠিন। শুধু অভিনেতা নন, আমরা একজন আপাদমস্তক সংস্কৃতিকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টকে হারালাম।

 

চিত্রনায়ক রিয়াজ

আমাদের সম্পর্কটা ছিল পিতা-পুত্রের মতো। একজন অভিভাবক হিসেবে তাকে পেয়েছি সবসময়। একজন শিক্ষকও ছিলেন। তার কাছে অভিনয়ের অনেককিছু শিখেছি। মুগ্ধ করতো তার ভাবনাগুলো। তার চলে যাওয়ার যে অভাব তা কোনোদিন পূরণ হবে না। জানি না কেন তিনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন। তার প্রথম পরিচালিত ছবির নায়ক ছিলাম আমি। কাজ করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তিনি না থাকলেও এই সম্পর্কটা থেকে যাবে। আমি তাকে লালন করবো আমার মধ্যে। ব্যক্তিজীবনে তিনি অনেক সংগ্রাম পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু কোনোদিন সেসব সমস্যার কোনো ছাপ তার চেহারা বা পেশায় পড়েনি।

 

অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি

খুব কষ্ট হচ্ছে, কিছু বলার ভাষা নেই। তাকে ঘিরে আমাদের পরিবারের কত স্মৃতি। কত আনন্দের মুহূর্ত! কিছু বলতে পারছি না। গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাই।

 

চিত্রনায়ক ওমর সানী

চলে গেলেন আমাদের সবার প্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান ওস্তাদ। মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দান করুন। আমার অভিনীত ‘চাঁদের আলো’ থেকে শুরু করে যে সহযোগিতা আপনি করেছেন তা আমি সারাজীবন ভুলবো না।