গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
শীতের তীব্রতা কাটিয়ে গোমস্তাপুরের আমবাগানগুলোতে ফুটতে শুরু করেছে মুকুল। মুকুলের সমারোহে বাতাসে বইতে শুরু করেছে পাগল করা ঘ্রাণ। উপজেলার আমবাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আমবাগানের সারি সারি গাছের ডালে শোভা পাচ্ছে হলুদ আর সবুজের মহামিলন। গাছের প্রতিটি ডালপালায় মুকুল ছেয়ে আছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ, ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা বাতাস। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৪৩ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ফজলি ৯৮৫ হেক্টর, আশ্বিনা ১ হাজার ২৩০ হেক্টর, ল্যাংড়া ৩৯৫ হেক্টর, খিরসাপাত ২৫৫ হেক্টর, গোপালভোগ ২২০ হেক্টর, আমরুপালি ২৮০ হেক্টর, মল্লিকা ০৫ হেক্টর, লক্ষণভোগ ১৯৫ হেক্টর, বোম্বাই ১৫ হেক্টর, উন্নত গুটি ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে।
আমবাগান মালিক বাবু আলি বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায়, বাগানের গাছে গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। তার বাগানে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে বেশির ভাগ গাছে মুকুল এসেছে। পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে মুকুল রক্ষা করতে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচর্যা শুরু করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলনের আশা করেন তিনি। বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, আমবাগানে মুকুল আসার পর থেকেই তিনি গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত উপজেলার আমবাগানগুলোতে মুকুল ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ফুটেছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে মুকুল ফুটতে দেরি হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার মুকুল ফোটার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, আমচাষিদের বিভিন্ন সময় পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠ দিবস, উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনার হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে তিনি আশাবাদী।