অগ্নি প্রতিরোধে আমাদের করণীয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে অগ্নিকাণ্ডে ১৫৪ জন নিহত হন এবং মোট আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা এবং চুলা। কারণগুলো লক্ষ করলেই বোঝা যায় সচেতনতার মাধ্যমে বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডই প্রতিরোধযোগ্য। উত্তর বাড্ডা সংলগ্ন আবদুল্লাহবাগ, ভাওয়ালীয়া পাড়া, জিএম বাড়ি ও এর আশেপাশে প্রতিটি গলিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাঠের কারখানা, যত্রতত্র গড়ে ওঠা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, পাইপ কারখানাসহ ভাঙ্গারির (পুরানো কার্টুন, পলিথিন, প্লাস্টিক) গুদাম। এ কারখানাগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকবে এটি ভাবা বাতুলতা। আর তাই একটু অসর্তকতায় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আমার বাসার পাশেই কাঠের কারখানা থেকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যরাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী হিসেবে দেখেছি এর ভয়াবহতা। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপণ কর্মীদের তত্পরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উত্সুক মানুষের ভিড়ে তাদের কার্যক্রম ভীষণভাবে ব্যাহত হয়। সেইসঙ্গে রয়েছে পানির স্বল্পতা। ঢাকা শহরে পুকুর, ডোবা, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির সংকট অগ্নি নির্বাপণ কর্মীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফায়ার সার্ভিস গাড়ির পানি, পার্শ্ববর্তী বাড়ির জলাধার অগ্নি নির্বাপণে সমুদ্রে শিশির বিন্দু। 

অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, বিধিমালা, সুপারিশ সত্ত্বেও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে জাতীয় অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিহীনতা একটি ধারাবাহিক ঘটনা যার জন্য বিভিন্ন সময়ে চরম মূল্য দিতে হয়েছে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে। এখন সময় হয়েছে প্রতিটি এলাকায় সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে সমন্বিত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানা চিহ্নিত, আবাসিক এলাকা সংলগ্ন অবৈধ কারখানা নিষিদ্ধ করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধার, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সবার সচেতনতা। আর এই পদক্ষেপগুলোই পারে জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে।

নাদিরা সুলতানা

বাড়ি ১, রাস্তা  ৫,

আবদুল্লাহবাগ, জিএম বাড়ি,

সাতারকুল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা ১২১২