মোবাইলফোনভিত্তিক টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো বিকাশ। এই ‘বিকাশ’-এর নামে প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতেছে একটি অসাধু চক্র। মানুষের না জানার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। একেক সময় একেক কৌশল খাটিয়ে গ্রাহকদের বিকাশ থেকে টাকা চুরি করছে তারা। প্রতারকেরা বিকাশের ম্যানেজার বা বিকাশের কর্মী পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের জানায়, অবৈধ আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধে সমস্ত ‘পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা থাকলেও আর তুলতে পারবেন না। এখন গ্রাহকদের সুবিধার জন্য তারা ফোন করে গ্রাহকদের তথ্য মিলিয়ে অ্যাকাউন্টটি আবার সচল করে দেওয়ার কাজ করছেন। এই পর্যায়ে গ্রাহককে একটি কোড নম্বর দিয়ে তারা বলে, আপনি এটা ডায়াল করে দেখুন, আপনি নিজেই দেখতে পাবেন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যটি। যদিও সেই কোড ডায়াল করলে কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। তখন প্রতারক গ্রুপ গ্রাহকদের পাসওয়ার্ড জানতে চায় এবং বলে যে পাসওয়ার্ড তাদের কাছে রয়েছে, শুধু গ্রাহকের পরিচয় কনফার্ম হওয়ার জন্য এটি জানতে চাওয়া হচ্ছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, গ্রাহকেরা পাসওয়ার্ড দিতে না চাইলে তারা আরেকটু কৌশলী হয়ে বলে, আপনার বিকাশের পিন নম্বরের সঙ্গে এত যোগ করেন। যখনই গ্রাহকেরা যোগ করেন তখন তারা সহজেই গোপন পিন নম্বরটি বের করে ফেলতে পারে। এরকম করে প্রতারকেরা নতুন নতুন ফাঁদ পেতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সুতরাং যখনই কেউ পাসওয়ার্ড চাইবে তখনই বুঝে নেবেন এটি একটি প্রতারণা। যথাসম্ভব এ ধরনের কল রিসিভ করা থেকে বিরত থাকবেন।
ফারহানা ইয়াসমিন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়