নায়ক নয়, অভিনেতা হওয়াই মূল লক্ষ্য:জামিল

মীরাক্কেল খ্যাত অভিনেতা জামিল হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত কাজ করছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনে। নিজের মেধা, যোগ্যতা আর পরিশ্রমে এরইমধ্যে জনপ্রিয় তকমা যোগ করেছেন নামের পাশে। শিগগিরই প্রকাশ পাচ্ছে তার নতুন একটি গান। নিজের কাজ ও শোবিজের নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

আপনার নতুন গান প্রকাশ পাচ্ছে। এই গান ও পরবর্তীতে আর কী চমক নিয়ে আসছেন সেই বিষয়ে জানতে চাচ্ছি—

আপাতত এই গানটি আমার ভক্ত-দর্শকদের জন্য নতুন চমক। ‘বন্ধু রে তুই আমার চোখের নোনাজল’ শিরোনামের এই মৌলিক গানটি লিখেছেন লুত্ফর হাসান। সুর করেছি আমি নিজেই এবং সংগীতায়োজন করেছেন রানা আখন্দ। মিউজিক ভিডিও আকারে গানটি প্রকাশ পাবে। আর অন্যান্য ব্যস্ততা বলতে আগের যে নাটক, সিরিয়ালের কাজ করছিলাম সেগুলোই করছি।

আপনি স্ট্যান্ডআপ কমেডি দিয়ে শোবিজে পা রেখেছেন। এরপর অভিনয়েও বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। মাঝে মাঝে গানেও দেখা যায়। আসলে কোন মাধ্যমে নিজেকে দেখতে চান?

আমি অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। নিজেকে ভালো একজন অভিনেতার জায়গায় দেখতে চাই। নায়ক নয়, অভিনেতা হওয়াই মূল লক্ষ্য। গানটি কিন্তু অভিনয়ের একটি অংশ। তাছাড়া গান আমার রক্তে মিশে আছে। আমার বাবা কিন্তু কাউয়ালি গান করতে। তাই শখের বসে গান করি। আর অভিনয় আমার নেশা ও পেশা, দুটোই।

ক্যারিয়ারে বারবার এই মাধ্যম পরিবর্তন কেন? তাহলে কী আমাদের প্রেক্ষাপট কমেডিতে ক্যারিয়ার গড়ার মতো অবস্থায় নেই?

দেখুন, কমেডি আর স্ট্যান্ডআপ কমেডি কিন্তু আলাদা। তবে আমি কিন্তু কমেডির বাইরে কাজ করছি না। নাটক সিনেমা সব জায়গাতেই কমেডি রয়েছে। আমি নিয়মিতই নাটকে কাজ করছি। কমেডি ছেড়ে তো দিইনি। শুধু দুই কমেডির ফর্মেটটা দুটি আলাদা। আর স্ট্যান্ডআপ কমেডিতে শুধু কর্পোরেট শোগুলোতে করা যায়। কিন্তু আমি সেগুলো করছি না। তবে ভালো শো পেলে নিশ্চয় করবো। স্ট্যান্ডআপ কমেডিতেও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় কাজ কম।

আপনারা যারা মিরাক্কেল থেকে এসেছেন তাদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া বাকিরা সেভাবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেনি। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

দেখুন, আমি কিন্তু কাজ করছি। পাভেলও বেশ ভালো কাজ করছে। ওদিকে রনি যে মাধ্যমে কাজ করতে চায় সেই মাধ্যমে কিন্ত সে সফল। আমি শুরু থেকেই চেয়েছিলাম অভিনয় করবো, বাকিরা হয়তো সেভাবে চায়নি। আসলে জনপ্রিয়তা তো অন্য জিনিস। এটার পরিমাপ কে কীভাবে করবে সেটা আমি জানি না। তবে লক্ষ্য, চেষ্টা আর সততার সঙ্গে পথ চললে সফল হওয়া সম্ভব।

একজন কমেডিয়ানের অভিনয়ে থিতু হওয়া কতটা চ্যালেঞ্জের ছিল?

হ্যাঁ, নিশ্চয় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জর ছিল। এখানে এসে ৩/৪ বছর নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে যে, আমি অভিনয় করতে পারবো। এখনো জানি না করতে পারছি কি-না। তবে চেষ্টা করছি ভালো অভিনয় করার।

নাটকে দীর্ঘদিন ধরেই চরিত্র সংকটের একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই ধারাবহিকতা ওয়েব সিরিজ ও নতুন মাধ্যম ওটিটিতেও প্রতীয়মান। বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আমাদের দেশে আগেও এটা ছিল, এখনো আছে। বাজেট আসলে অনেক বড় একটি সমস্যা। এই সমস্যার কারণেই কম শিল্পী নিয়ে সবাই কাজটি শেষ করার চিন্তা করে। যদিও ওটিটি প্লাটফর্ম আসায় বাজেট অনেকে বেড়েছে, তবু চরিত্র সংকট থেকেই যাচ্ছে। এই কমানোর মানসিকতা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

উন্মুক্ত মাধ্যম হওয়ায় যে যার ইচ্ছেমতো নাটক ও ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করছে। এতে অশ্লীল দৃশ্য, সংলাপ ও মান নিয়ে নেতিবাচক কথা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নতুন মাধ্যম যুক্ত হওয়া কিন্তু আমাদের সময়ের দাবি। বিশ্বের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। টিভি থেকে ইউটিউব, তারপর এলো ওটিটি। এটাই পরিবর্তন। এগুলো নিজেদের করে নিয়ে, প্রপার ওয়েতে আমাদের ব্যবহার করতে হবে। আর মানহীন কাজ, অশ্লীল সংলাপ ও দৃশ্যের বিরোধী আমি আগেও ছিলাম, এখনো আছি। কেন এ ধরনের সংলাপ ব্যবহার করতে হবে? আমাদের তো সংলাপের অভাব নেই। আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ভাষা আছে সেগুলোই তো অনেক উন্নত। দর্শকরা ভালোবেসে গ্রহণও করেন। তাই আমার মনে হয়, এ ধরনের কাজ নিয়ে এখনই আমাদের ভাবতে হবে।